Thursday , October 21 2021
Home / Uncategorized / হাওড়া ব্রিজের জানা-অজানা ইতিহাস

হাওড়া ব্রিজের জানা-অজানা ইতিহাস

আজও মহানগরের প্রধান মুখ বলতে রয়ে গেছেন, যার আরেক নাম রবীন্দ্র সেতু বলে জানি আমরা। দুই শহর হাওড়া আর কলকাতার মধ্যে যোগাযোগ স্হাপন এর জন্য হাওড়া ব্রিজ তৈরি করা হয়। ১৮৬০ সাল নাগাদ ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়ে স্টেশন হিসেবে হাওড়া স্টেশন তৈরি করল

তখন একটা ব্রিজ জরুরি হয়ে পড়ল। শুধু গঙ্গায় স্টিমার, আর নৌকায় করে জিনিসপত্র সরবরাহ করা অসম্ভব ছিল। ১৮৭১ সালে বাংলার লেফটানেন্ট গভর্নর স্যার জর্জ ক্যাম্পবেল পাশ করলেন ‘হাওড়া ব্রিজ অ্যাক্ট’ (Bengal Act IX, 1871)। তখন সরকার আর ইস্ট ইন্ডিয়া

রেলওয়ের সেই সময় এর চিফ ইঞ্জিনিয়ার স্যার ব্র্যাডফোর্ড লেসলির চুক্তি হল, হাওড়া আর কলকাতার মধ্যে হুগলি নদীর ওপর তৈরি হবে ভাসমান ব্রিজ। ১৮৭৪ সালে তৈরি হল ব্রিজ।মাঝখানের অংশ জাহাজ এর জন্য খুলে দেওয়া যেত। ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ইংল্যান্ডে বানানো

হয়েছিল। এটি বানানো হয়েছিল পঁচিশ বছর চালাবার জন্য, কিন্তু এটি প্রায় তিনগুণ বেশি সময় খুব সফলভাবে ব্যবহার করা হল।গাড়িঘোড়ার চাপ, জিনিসপত্র কয়েক গুণ বেড়েছে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। ভার বহনের জন্য ভাসমান ব্রিজ প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। ব্রিজ পার হয়ে কলকাতা থেকে হাওড়া যাওয়া ক্রমেই এক সমস্যা হয়ে উঠতে লাগল যাত্রীদের কাছে।তাছাড়া যখন জাহাজ যায়, তখন ব্রিজ থাকে খোলা। তখন বৃটিশরা বুঝতে পারে আবার একটি ব্রিজ করতে হবে। নতুন করে ব্রিজ বানানো সোজা নয়।সরকার পরপর কমিটি বানিয়ে চলল যারা এই

ব্রিজ কীভাবে বানানো যায় তার প্ল্যান করবে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ১৯২১ সালে ছ জন সদস্য নিয়ে মুখার্জী কমিটি। এই কমিটির প্রেসিডেন্ট বাঙালি শিল্পপতি স্যার রাজেন্দ্র নাথ মুখার্জী।এই মুখার্জী কমিশন বহু সার্ভের পর রিপোর্ট জমা দিল তা হল হাওড়া আর কলকাতার মধ্যে সবচেয়ে ভালো হবে ক্যান্টিলিভার ব্রিজ। এমন ব্রিজ থাকলে হুগলি নদীতে জাহাজের অবাধ চলাচল বজায় রাখা সম্ভব। ১৯২৪ সালে বেঙ্গল লেজিসলেটিভ কাউন্সিলে এই রিপোর্ট নিয়ে মিটিং হয়। ক্যান্টলিভার ব্রিজ বানাতে খরচের কথা ভেবে কাউন্সিলের সদস্যরা রাজি ছিলনা। অবশেষে ১৯২৬ সালে পাশ হল হাওড়া ব্রিজ অ্যাক্ট। শেষ অবধি ক্যান্টিলিভার ব্রিজের পক্ষেই রায় যায়। মেসার্স রেন্ডেল পামার ট্রিটন ১৯২৯

সালে ক্যান্টিলিভার ব্রিজের ডিজাইন ও ড্রয়িং জমা দেয়। ব্রিজ তৈরিতে মূল ঠিকাদার ছিল ডার্লিংটনের ক্লীভল্যান্ড ব্রিজ কোম্পানি, আর সাব কনট্রাক্টর হিসেবে কাজ করেছিল তিন সুবিখ্যাত কোম্পানি – ব্রেথওয়েট, বার্ণ আর জেসপ। ১৯৩৬ সালে কাজ শুরু হয় এবং সাত বছর লাগে শেষ হতে। খরচ হয়েছিল ২৫০ লক্ষ টাকা। হাওড়া ব্রিজকে আমরা এখন দেখি, তা হল সাসপেন্ডেড ব্যালেন্সড ক্যান্টিলিভার স্টিল ট্রাস ব্রিজ। বেশি স্টীল সরবরাহ করেছিল জামশেদপুরের টাটা আয়রন অ্যান্ড স্টিল কোম্পানি। প্রায় ২৬৫০০ টন স্টীল লেগেছিল ব্রিজ বানাতে। ১৯৪৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠান ছাড়াই চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় হাওড়া ব্রিজ, কারণ তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। এক ট্রাম ব্রিজ পেরিয়ে

শুভ সূচনা করে। আর আজ, সেই ট্রামেরই প্রবেশই নিষিদ্ধ। ব্রিজ চালু হওয়ার পর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের ভার ক্যালকাটা পোর্ট ট্রাস্টের ওপর। এই ব্রিজের ট্রাসগুলি সম্পূর্ণ লো অ্যালয় হাই টেনসাইল স্টিল রিভেটেড। দেশে তখন ষ্টিল উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির বিকাশের সময়, তাদের পক্ষে এই নির্মাণ হয়ে ওঠে গর্বের প্রতীক।৭৫ বছর ধরে হাওড়া ব্রিজ প্রতিদিন পার করে কত পথচারীকে, বাসকে। প্রথমদিকে মানুষ, পশুচালিত গাড়ি, কিছু মোটর আর মিলিটারি ট্রাক চলত। এই ব্রিজকে ঐতিহ্যশালী আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ১৯৬৫ সালের ১৪ জানুয়ারি হাওড়া ব্রিজের নাম হয় রবীন্দ্রসেতু। সারা বিশ্বে দৈর্ঘের বিচারে এটি ষষ্ঠ ক্যান্টিলিভার ব্রিজ। লন্ডনের টাওয়ার ব্রিজ বা আমেরিকার ব্রুকলিন ব্রিজের মতোই এ শহরের

প্রতীক হয়ে সে রয়ে গেছে। বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ৯৭৮টি গ্যাস বেলুন স্কোয়াড্রন জাপানী বোমার হাত থেকে রক্ষা করেছিল একে। ২০০৫ সালের ২৪ জুন একটি জাহাজ ব্রিজের নিচে আটকে গিয়ে ক্ষতি করেছিল যা সারানো হয়। বর্তমানে ব্রিজের স্টিলের সবচেয়ে বড় সমস্যা মানুষের থুতু ও পানের পিক। স্টিল পিলার গুলিকে ফাইবার গ্লাস দিয়ে ঘিরে, পরিচ্ছন্ন রাখার চেষ্টা করছে সরকার।ব্রিজ রঙ করতে ২৬০০০ লিটার সীসামুক্ত রঙ লাগে। তবে এর বুক থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে বহু মানুষ জীবন শেষ করার জন্য সরকার কাঁটাতারের বেড়া লাগিয়েছে। তবু এই হাওড়া আর কলকাতার মাঝে ব্রিজের গুরুত্ব এতটুকুও কমেনি।

Check Also

বাচ্চাকে বুদ্ধিমান হিসাবে গড়ে তুলতে চাইলে শিখে রাখুন এই ৮টি কৌশল

বাচ্চাকে বুদ্ধিমান হিসাবে গড়ে তুলতে চাইলে শিখে রাখুন এই ৮টি কৌশল

অল্প বয়সে আপনার শি’শুর বু’দ্ধিমত্তা শাণিত করার দিকে নজর দিতে হবে। শিক্ষাবিদরা বহুবার সা’বধান ক’রেছেন, ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *