Saturday , September 25 2021
Home / লাইফ-স্টাইল / অতিরিক্ত শাসন বা বকাঝকা না করে বাচ্চাদের ডিসিপ্লিন শেখান

অতিরিক্ত শাসন বা বকাঝকা না করে বাচ্চাদের ডিসিপ্লিন শেখান

সন্তানকে ডিসিপ্লিনড হতে শেখানোর সবচেয়ে সহজ রাস্তা অভিভাবকদের নিজেদের ডিসিপ্লিনড করে তোলা। নিজেকে সন্তানের কাছে রোল মডেল করে তুলতে পারলে, বাচ্চা আপনাকে দেখেই শিখবে। যা যা নিয়ম বাচ্চাকে দিয়ে মানাতে চাইছেন, বাচ্চাকে তার মৌখিক ইনস্ট্রকশনের

পাশাপাশি নিজেও সেই নিয়মগুলো মেনে চলুন। অনেক বেশি এফেক্টিভ হবে। আপনি যদি সময়ে অসময়ে টিভি চালিয়ে দেন বা ফোনে আড্ডা দেন, তাহলে কখনই এক্সপেক্ট করবেন না যে আপনার ছেলেমেয়ে সময়মতো হোম ওয়র্ক শেষ করবে। নিজে সময়ের কাজ সময়ে করুন,

সন্তানরা আপনাকে দেখেই শিখবে। তবে এর বাইরেও এমন অনেক পরিস্থিতি আসতে পারে, যেখানে এই নিয়ম খাটবে না। সেক্ষেত্রে আরও কয়েকটা টিপস মনে রাখুন।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক-

১. আপনি যদি সন্তানের থেকে সম্মান আশা করেন, তাহলে আপনাকেও ওকে সম্মান করতে হবে। ও যত যত ছোটই হোক না কেন, ও যে পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এই বোধটা যেন ওর ছোট থেকেই জেগে ওঠে। ওর মতামতকে গুরুত্ব দিন। ওর কথা শুনুন। যদি ওর অভিমত মানার মতো না হয়, তাহলে ওকে বুঝিয়ে বলুন কেন তা সম্ভব নয়। “আমি না বলেছি, তাই না।” এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয়।

২. সন্তানকে শাসন করার সময় আপনি এবং আপনার স্বামীকে একটা ইউনিট হিসেবে কাজ করতে হবে। একজন খুব বকাঝকা করলেন আরেরকজন টেনে নিয়ে গিয়ে আদর করলেন, এমন করলে চলবে না। এতে বাচ্চার মধ্যে কোনও একজনকে ফেবার করার প্রবণতা আসতে পারে। বাচ্চাকে শাসন করতে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ঝামেলা করবেন না। বাচ্চাকে বোঝাতে হবে ভুলটা ভুলই। ও যেন বুঝতে পারে অন্যায় করলে মা এবং বাবা দু’জনেই রাগ করেন।

৩. বাচ্চাকে বকার প্রয়োজন হলে কখনও কোনও খারাপ শব্দ প্রয়োগ করবেন না বা অন্য কারওর সঙ্গে তুলনা করে কথা বলবেন না। এতে বাচ্চার আত্মবিশ্বাস কমে যায়। যেমন “তোমার মাথায় একেবারেই বুদ্ধি নেই” এরকম না বলে বলতে পারেন, “এটা কি একটা বুদ্ধিমান ছেলের মতো কাজ হয়েছে?”
৪. একজন শিশুর চারিত্রিক বৈশিষ্ট এক-একরকম। সেই অনুযায়ী আপনার প্ল্যান এবং অ্যাকশন তৈরি করুন। হাইপারঅ্যাক্টিভ বাচ্চার সঙ্গে কল্পনাপ্রবণ শান্ত বাচ্চার একটা পার্থক্য তো থাকবেই। ও কীভাবে সময় কাটাতে ভালবাসে, অ্যাটেনশন স্প্যান কতটা, কোন সময়ে পড়তে বসতে স্বচ্ছন্দ বোধ করে, এইসব কিছু মাথায় রেখে দিনের রুটিন স্থির করুন। ওর সঙ্গে রুটিনটা অবশ্যই আলোচনা করুন। তবে খেয়াল রাখবেন রুটিন একবার ফিক্সড হয়ে গেলে সেটার যেন নড়চড় না হয়।

৫. খুব বেশি নিয়মকানুন বাচ্চাদের উপর চাপিয়ে দেবেন না। স্কুল থেকে ফিরে অন্তত দুঘণ্টা যেন ছোটাছুটি করে বন্ধুদের সঙ্গে খেলতে পারে । ছবি আঁকা, স্ট্যাম্প জমানোর মতো নিজস্ব কিছু শখ থাকলে উৎসাহিত করুন।
৬. ডিসিপ্লিন কখনই চাপিয়ে দেবেন না। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ওর পছন্দ অপছন্দকে গুরুত্ব দিন। কেন আপনি সিদ্ধান্তটা নিচ্ছেন সেটা বুঝলে ওর কাছে ডিসিপ্লিনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।

৭. কোনও অন্যায় করতে দেখলে প্রথমে ওয়ার্নিং দিন, বুঝিয়ে বলুন তারপর শাস্তি দিন। শাস্তি মানে কিন্তু চেঁচামেচি বা গায়ে হাত তোলা একেবারেই নয়। কিছুদিনের জন্য ওর পছন্দের কোনও জিনিস বন্ধ করে দিন বা ওর সঙ্গে কথা বলা থামিয়ে দিন।
৮. সবার সামনে ওর সমালোচনা বা নিন্দা করবেন না এতে ওর আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরতে পারে। কথাবার্তায়, আচার আচরণে ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলে ও উৎসাহিত বোধ করবে। কোনও উপলক্ষ ছাড়াই ওর পছন্দমতো ছোট কোনও উপহার দিন যাতে ও বুঝতে পারে ওর ব্যবহারে এবং কাজকর্মে আপনারা খুশি।

৯. ওর সামনে কখনই কোনও গুরুজনের সমালোচনা বা মিথ্যাচার করবেন না তাহলে ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা তো হারাবেই আপনাকেও শ্রদ্ধা করতে শিখবে না। এই অশ্রদ্ধা ওর আচার আচরণে ফুটে উঠবে। বাচ্চাকে সময় দিন যাতে আপনারা একে অপরকে ভাল করে চিনতে পারেন। এই সময়টুকুর মধ্যে সুস্থ রুচি, সামাজিকতার খঁুটিনাটি ওর মধ্যে গেঁথে দিন। রুটিন ভাঙার মজাটাও ওকে উপভোগ করতে দিন কোনও একটা ছুটির দিনে বা ভ্যাকেশনের সময়। কোনও নিয়মের তোয়াক্কা না করে সপরিবারে সেই বিশেষ দিনটিতে মেতে উঠুন হুল্লোড়ে।

Check Also

ঘরে বসে অনলাইনে এক নিমেষেই করুন ড্রাইভিং লাইসেন্স হতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন! রইলো পদ্ধতি

ঘরে বসে অনলাইনে এক নিমেষেই করুন ড্রাইভিং লাইসেন্স হতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন! রইলো পদ্ধতি

ঘরে বসে অনলাইনে এক নিমেষেই করুন ড্রাইভিং লাইসেন্স হতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন!- করোনা আসার পর মানুষের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *