Friday , January 28 2022
Home / স্বাস্থ্য / ‘ওমিক্রন’ কেন এত বিপজ্জনক? এর উপসর্গ কী কী?

‘ওমিক্রন’ কেন এত বিপজ্জনক? এর উপসর্গ কী কী?

ঋতু বদলাতেই করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের সন্ধান মিললো। সর্বশেষ এই ভ্যারিয়েন্ট ডেল্টার চেয়েও বিপজ্জনক। কোভিড জীবাণুর সবচেয়ে বেশি মিউটেট হওয়া সংস্করণ ওমিক্রন। এ কারণেই বিজ্ঞানীরা একে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। যদিও ভয়াবহ এই

ভ্যারিয়েন্টের প্রকোপ দক্ষিণ আফ্রিকার একটি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি বিশ্বের সব স্থানেই সময়ের ব্যবধানে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট কেন এতোটা ভয়াবহ? বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের নাম দিয়েছে ওমিক্রন। গ্রিক বর্ণমালার আলফা, ডেল্টার মতোই নতুন এই ভ্যারিয়েন্টের কোড নাম দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এই ভ্যারিয়েন্টটি মিউটেট বা তার রূপ পরিবর্তন

করেছে অনেকভাবে। দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিক রেসপন্স অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক অধ্যাপক টুলিও ডি অলিভিয়েরা বলছেন, ‘এখন পর্যন্ত অন্য যেসব ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে তার চেয়ে এটি অনেকখানিই বিপজ্জনক।’ এরই মধ্যে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের খবরে বিভিন্ন দেশের বিমনাবন্দরে জারি হয়েছে নতুন সতর্কতা। এক সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডি অলিভিয়েরা জানিয়েছেন, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট

মিউটেট করেছে ৫০ বার। আর এর স্পাইক প্রোটিন বদলেছে ৩০ বার। মানুষের দেহের মধ্যে ঢুকতে কোভিড ভাইরাস এই স্পাইক প্রোটিন ব্যবহার করে। এবং করোনার ভ্যাকসিন সাধারণত এই স্পাইক প্রোটিনকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়। ভাইরাসের যে অংশটি প্রথম মানুষের দেহকোষের সঙ্গে সংযোগ ঘটায় তার নাম ‘রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইন’। ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট সেই রিসেপ্টার বাইন্ডিং ডোমেইনে মিউটেশন

ঘটিয়েছে ১০ বার। সেই তুলনায় করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টে এই পরিবর্তন হয়েছে মাত্র দু’বার। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এ ধরনের মিউটেশন সম্ভবত একজন রোগীর দেহের জীবাণু থেকে এসেছে, যিনি এই ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে পারেননি।

ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টর লক্ষণসমূহ
চিকিৎসকদের মতে, ওমিক্রনের কিছু লক্ষণ আছে যা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যদিও আক্রান্তদের মধ্যে ওমিক্রনের লক্ষণ হালকা মিলেছে। আবার কিছু রোগী হাসপাতালে ভর্তি না হয়েই সুস্থ হয়ে উঠেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (সামা) প্রধান ডা. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েজি

বলেছেন, ‘ওমিক্রনে আক্রান্ত রোগীদের বিভিন্ন উপসর্গের মধ্যে দেখা গেছে- চরম ক্লান্তি, গলা ব্যথা, পেশী ব্যথা ও শুকনো কাশির মতো সমস্যা। একই সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট থেকে এর লক্ষণগুলো বেশ ভিন্ন।’ডা. অ্যাঞ্জেলিক কোয়েজি আরও জানিয়েছেন, তিনি এখন পর্যন্ত যত রোগী দেখেছেন তাদের সবার টিকা নেওয়া হয়নি। তাদের ওমিক্রনের হালকা লক্ষণ ছিল। তার

মতে, ইউরোপের বিপুল সংখ্যক মানুষ করোনার এই নতুন প্রজাতি দ্বারা সংক্রামিত। এখনও পর্যন্ত ওমিক্রন দ্বারা সংক্রামিত বেশিরভাগ রোগীর বয়স ৪০ বছরের কম। আরো একটি বিষয় হলো, ডেল্টা আক্রান্তদের মতো ওমিক্রনে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত স্বাদ-গন্ধ হারিয়ে ফেলার ঘটনা ঘটেনি। এমনকি এই ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রে করোনা রোগীর রক্তে অক্সিজেন মাত্রাও হঠাৎ নেমে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি।

বিজ্ঞানীরা কী বলছেন?
বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, কোভিডের মূল স্ট্রেইনকে মাথায় রেখে তৈরি করা ভ্যাকসিন এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর নাও হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রিচার্ড লেসেলস বলছেন, ‘এই ভাইরাসটির সংক্রমণের ক্ষমতা শঙ্কার মধ্যে ফেলেছে। আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেদ করার কিছু ক্ষমতাও সম্ভবত এর আছে।’চলতি বছরের শুরুর দিকে বেটা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সবাই

দুর্ভাবনায় ছিলেন। এরপর দেখা গেলো ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এর চেয়েও দ্রুত গতিতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাভি গুপ্তা বলেন, ‘বেটা ভ্যারিয়েন্ট শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেদ করতে পারতো। ডেল্টার সংক্রমণ ক্ষমতা ছিল বেশি। তবে ওমিক্রন দুদিক দিয়েই সমান পারদর্শী।’ ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার গটেং প্রদেশে।বোতসোয়ানায় পাওয়া গেছে চারটি কেস ও হংকংয়ে পাওয়া গেছে একটি কেস। ইসরায়েল ও বেলজিয়ামেও ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। সূত্র: বিবিসি/জিনিউজ

Check Also

যে ৭ কারণে প্রতিদিন সকালে গরম জলের সাথে লেবু মিশিয়ে খাবেন

যে ৭ কারণে প্রতিদিন সকালে গরম জলের সাথে লেবু মিশিয়ে খাবেন

রোজ সকালে নিয়ম করে লেবুর পানি খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে সব ধরনের চিকিৎসা শাস্ত্রে। শুধুমাত্র ...

Leave a Reply

Your email address will not be published.