Saturday , September 25 2021
Home / সংস্কার / কুড়িতেই বুড়ি ভাবনার দিন শেষ, ত্রিশের পরেও ধরে রাখুন তারুণ্য

কুড়িতেই বুড়ি ভাবনার দিন শেষ, ত্রিশের পরেও ধরে রাখুন তারুণ্য

বয়স ত্রিশ পেরোনোর পর ত্বকে পরিবর্তন আসতে থাকে। তাতে কী! সচেতন থেকে যত্ন নিলেই এড়ানো যায় বয়সের ছাপ। চিরসবুজ ত্বক, তরুণ মন নিয়ে ত্রিশ পেরোনো নারী থাকতে পারেন তারুণ্যে সমুজ্জ্বল।নিয়মিত যত্ন নিলে ত্রিশ বয়সের পরেও থাকা যায় সতেজ ও উজ্জ্বল।

কুড়িতেই বুড়ি—পুরোনো ভাবনার দিন যে ফুরিয়েছে।ত্রিশ পেরোনো নারী খেয়াল রাখছেন সদ্যোজাত শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠের, কেউ হয়তো সদ্য গুছিয়েছেন টোনাটুনির সংসার, কেউ আবার আগের কয়েকটি বছর সংসার সামলে এই ত্রিশ পেরিয়ে এসেই নতুন করে হয়ে উঠছেন উদ্যোক্তা। জীবনের পথে সদ্যই এগিয়েছেন আরেক ধাপ, কেউ হয়তো কর্মক্ষেত্রে পেয়েছেন পদোন্নতি। সাফল্য এলই না হয় ত্রিশ পেরিয়ে। তবু ত্রিশের

নারী তো তারুণ্যে সমুজ্জ্বল। মনকে তরুণ রাখার কিন্তু বিকল্প নেই। সবার প্রতি কর্তব্য আপনার প্রথম দায়বদ্ধতা? হোক না।তাতে কি? সবাইকেই যত্নে রাখুন, নিজেও থাকুন নিজের খানিক যত্নে। ঘরে-বাইরে সব মিলিয়ে কর্মের যে বিশাল পরিধি, তার কেন্দ্র কিন্তু আপনিই।‘একটা সময় হয়তো আমরা আলাদাভাবে নিজের যত্ন নিতে ভুলে যাই। কাজের ফাঁকে আমরা বয়সের মাপকাঠি ভুলে থাকতে চাই। কিন্তু বয়সের সঙ্গে

মানিয়ে নিয়েই নিজের যত্নের একটি ধারা নির্ধারণ করে নেওয়া প্রয়োজন। নইলে বয়সের ছাপ দেখা দিতে পারে আগেভাগেই।’এমন বলছিলেন রেড বিউটি স্যালনের রূপবিশেষজ্ঞ আফরোজা পারভীন। বয়স ত্রিশের ঘরে পড়লেই মুখ, গলা, হাত-পায়ের ত্বকে পরিবর্তন আসতে থাকে। তাই ত্বককে চিরতরুণ রাখতে এই বয়স থেকেই নিতে হবে নিজের যত্ন। জীবনের কোনো এক পড়ন্ত বেলায় গিয়ে অন্য কাউকে ‘চিরসবুজ’ থাকতে

দেখে ‘এত দিন কেন নিজেকে সময় দিইনি’ ভেবে আক্ষেপও হবে না। ত্বক শুষ্ক প্রকৃতির হলে কিংবা একটু কম পুরু হলে বয়সের ছাপ আগে আসতে পারে। তবে এই বয়সে সব ধরনের ত্বকেরই যত্ন চাই।

সু–অভ্যাসে সুদিন-
১.ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন নিয়মিত। ত্বক মসৃণ ও টান টান থাকবে। ২. খুব জোরে ঘষে ঘষে মুখ মোছা যাবে না। আলতো হাতে মুখ মোছার অভ্যাস করুন, যাতে ত্বকে চাপ না লাগে (নিচের দিকে টান না লাগে)। ৩.মুখে প্রসাধন দেওয়ার সময়ও নিচের দিকে টানবেন না। ৪. ভ্রু বা কপাল কোঁচকানোর অভ্যাসটি খারাপ। এতে বাড়ে বলিরেখা। ৫. রোদে চোখ কুঁচকে তাকাতে গিয়ে চোখের নিচের বলিরেখাকে নিজেই ডেকে আনতে পারেন। তাই রোদচশমা ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলুন। ৬. ত্বকে কোনো কিছু দেওয়ার পর যদি চুলকানি বা অস্বস্তিকর অনুভূতি হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তা ধুয়ে ফেলতে হবে আর সেটি পরেও ব্যবহার করা উচিত নয়। আফরোজা পারভীনের কাছে জেনে নেওয়া যাক নিজের যত্নের পুরোটা নিয়েই।

উজ্জ্বল জীবনের উজ্জ্বল মুখটা-
ফেসপ্যাকের জন্য নিন মাঝারি আকারের পাকা সাগর কলার খোসা ২টি, ভিটামিন ই ক্যাপসুল ২টি, চালের গুঁড়া ১ টেবিল চামচ, গোটা টমেটো ১টি। ভালোভাবে ব্লেন্ড করে মিশ্রণ (কিংবা শুধু রসটা) লাগিয়ে নিন হাত বা ব্রাশের সাহায্যে। ১৫ মিনিট পর পানি ফেলুন। ১ টেবিল চামচ টক দইয়ের সঙ্গে ১ চা-চামচ হলুদগুঁড়া, আধা চা-চামচ মধু আর আধা চা-চামচ বাদাম তেল (না থাকলে জলপাই তেল) মিশিয়ে তৈরি করুন প্যাক। রোজ সম্ভব না হলেও এক দিন অন্তর ব্যবহার করুন। এই প্যাক পায়ের ত্বকের জন্যও ভালো।

পায়ের ত্বকে প্যাক-
তৈরির জন্য নিতে হবে শসা (ছোট ১টি বা বড় শসার অর্ধেকটা, অর্থাৎ মোটামুটি ৩-৪ ইঞ্চি আকারের), পাকা কলা (২ ইঞ্চি আকারের), টক দই ১ টেবিল চামচ, বেসন ১ টেবিল চামচ ও বাদাম তেল আধা চা-চামচ। ব্লেন্ড করে পায়ে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। প্রতিদিন ব্যবহার করা যাবে। এই প্যাকও চাইলে হাতের ত্বকে প্রয়োগ করা যাবে।

চটজলদি হোক যত্ন-
রোজ পুরো শরীরে ময়েশ্চারাইজার লাগাতে ভালো লাগছে না? তাহলে গোসলের একদম শেষ দিকে এসে মগের পানিতে তেল (ত্বকে যে তেল প্রয়োগ করতে চান) মিশিয়ে নিন। চুল আটকে নিয়ে শরীরে ঢেলে দিন এই পানি। এরপর তোয়ালে দিয়ে শরীর মুছতে হবে আলতোভাবে চাপ দিয়ে।

চুলের জন্য-
সপ্তাহে ১-২ দিন মাথায় তেল মালিশ করুন। ৩-৪ রকম তেল (যেমন ক্যাস্টর অয়েল, জলপাই তেল, তিলের তেল, নারকেল তেল) সমপরিমাণে মিলিয়ে রেখে দিতে পারেন কৌটায়। কিংবা শুধু নারকেল তেলে কারি পাতা দিয়ে ফুটিয়েও নিতে পারেন। প্যাক তৈরি করতে নিন সমপরিমাণ আমলকী, হরীতকী, বহেরা। লাগবে টক দই (মিশ্রণের ঘনত্ব ঠিক করতে যতটা প্রয়োজন)। ব্লেন্ড করে নিয়ে মাথায় ও চুলে লাগানোর ২০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন, সপ্তাহে দুই দিন। একই দিনে তেল আর প্যাক লাগালে তেল মালিশের পর প্যাক লাগান।

চিরসবুজ পাতার মতন*-
নিজেকে সময় দিন। মাঝে মাঝে নিজেকে ছুটিও দিন, আয়েশ করুন। মনের যত্ন নিন। ভালো লাগার কাজে ডুবে থাকুন কখনো। বই পড়ুন। বাগান করুন। ছুটির দিনে ২০টি মিনিট আরামে শুয়ে থাকতে পারেন পছন্দের অডিও ক্লিপ শুনতে শুনতে, চোখের ওপর ঠান্ডা শসার স্লাইস রেখে। চোখের নিচের কালচে ছোপও কমবে। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন। শরীরচর্চা করুন নিয়মিত। পুষ্টিকর খাবার খেতেই হবে। পর্যাপ্ত পানি খেতে ভুলবেন না। কাজ ও বিশ্রামের সময় সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখুন (যেমন ঘাড়-কোমর নুইয়ে বা বাঁকিয়ে কাজ করা যাবে না, কম্পিউটারে কাজ করলে দেহভঙ্গি ঠিক রাখতে হবে)। আর থাকুন প্রফুল্ল।

Check Also

দুই সন্তানসহ চাচিকে বিয়ে করল ভাসুরের ছেলে!

দীর্ঘ দেড় যুগের পরকীয়ার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দুই সন্তানসহ চাচিকে বিয়ে করল ভাসুরের ছেলে!

দীর্ঘ দেড় যুগের পরকীয়ার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দুই সন্তানসহ চাচিকে বিয়ে করল ভাসুরের ছেলে!- দীর্ঘ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *