Friday , September 24 2021
Home / রুপচর্চা / কোকড়া চুল সোজা ও সিল্কি করার ১০০% কার্যকারী টিপস

কোকড়া চুল সোজা ও সিল্কি করার ১০০% কার্যকারী টিপস

সোজা (Straight) চুলের স্টাইল কখনো পুরানো হয় না ! ঝলমলে আর সোজা চুল কে না পছন্দ করে? বেশিরভাগ মানুষই চায় তাদের চুল

যেন সুন্দর, ঝলমলে, উজ্জ্বল, মসৃণ এবং সোজা হয়। বিশেষ করে তখনই যখন আপনার চুল বেশিরভাগ দিনেই অতিমাত্রায় কোঁকড়ানো এবং বাজে অবস্থায় থাকে। যাইহোক, আপনার চুলের স্টাইল বার বার পরিবর্তন করা অথবা স্থায়ীভাবে চুল সোজা করা আপনার চুলের স্বাস্থ্যের জন্য

ক্ষতিকর হতে পারে। যদি আপনি চুল সোজা করার জন্য প্রাকৃতিক পদ্ধতি ব্যবহার করেন তাহলে এর ফলাফল পেতে হয়তো অনেক সময় লাগতে পারে, কিন্তু এটি অবশ্যই আপনার চুলের সৌন্দর্য্য অনেক গুণ বাড়িয়ে দিবে এবং চুলের কোন প্রকার ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করবে।

কিভাবে ১০ টি প্রাকৃতিক উপায়ে ঘরে বসেই আপনি আপনার চুল সোজা করতে পারবেন তা আজ আমি আপনাদের জানাবো।

১। বাদাম তেল এবং ডিম উপকারিতাঃ
বাদাম তেল একটি ইমোলিয়েন্ট হিসাবে কাজ করে। ডিম তার উচ্চ প্রোটিন উপাদান দ্বারা চুলকে সিল্ক রাখতে সাহায্য করে। ফলে চুল সহজে সোজা থাকতে বাধ্য হয়। প্রয়োজনীয় উপকরণঃ ১/৪ কাপ বাদাম তেল ১টি কাঁচা ডিম ব্যাবহার পদ্ধতিঃ আপনার চুল ভেজা থাকলে অবশ্যই শুকিয়ে নিবেন। বাদাম তেল এবং ডিম একত্রিত করে ভালো করে মিক্সড করুন। যেন একটি মসৃণ পেস্ট এ রূপ ধারণ করে। একটি ব্রাশ এর সাহায্য নিয়ে চুলে ভালো ভাবে প্রয়োগ করুন। চুল ধুয়ে ফেলার সময় শাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যাবহার করুন। কতক্ষণ পর ধুয়ে ফেলবঃ ৪০ মিনিট প্রয়োগ সময়ঃ সপ্তাহে ১ বার করে ব্যাবহার করুন।

২। অ্যাভোকাডো মাস্ক উপকারিতাঃ
অ্যাভোকাডো ভিত্তিক হেয়ার মাস্ক ব্যবহার একটি সস্তা এবং সহজলভ্য পদ্ধতি। কিন্তু কোঁকড়ানো চুল নিয়ন্ত্রণে একটি কার্যকর উপকরণ। এতে রয়েছে ভিটামিন বি এবং ই যা চুলে পুষ্টি যোগাই এবং ক্ষতি থেকে মুক্তি দেয়। দই চুলের গোঁড়াকে মজবুত করে এবং পরিষ্কার রাখে। প্রয়োজনীয় উপকরণঃ ১টি পাকা অ্যাভোকাডো ১ কাপ দই ব্যাবহার পদ্ধতিঃ অ্যাভোকাডো কেটে এর বীজ ফেলে দিন। অ্যাভোকাডোটি পিষে নিন এবং দই দিয়ে ভালো করে মিশ্রণ করুন। এবার এটি আপনার চুলে লাগানোর মত মসৃণ হয়ে গেলে লাগিয়ে দিন। পরবর্তীতে ভালো মানের শাম্পু দিয়ে পরিষ্কার করে নিন। কতক্ষণ পর ধুয়ে ফেলবঃ ৩৫-৪৫ মিনিট প্রয়োগ সময়ঃ সপ্তাহে ১-২ বার করে ব্যাবহার করুন।

৩। কলা, মধু ও নারকেল তেল উপকারিতাঃ
কলা চুল কন্ডিশনিং এর জন্য মহান, বিশেষ করে যখন এটি মধুর সঙ্গে মিলিত হয় তখন একটি সুপরিচিত হিউমেকট্যান্ট এ রুপান্তরিত হয়। নারকেল তেল আপনার চুলের গভীরে প্রবেশ করে, ভিটামিন ই যোগানর ফলে কোঁকড়ানো চুল সোজা, উজ্জ্বল এবং মজবুত হয়। প্রয়োজনীয় উপকরণঃ ১টি পাকা কলা ২ চা চামচ মধু ১/৩ কাপ নারকেল তেল ব্যাবহার পদ্ধতিঃ পাকা কলাটি ভাল ভাবে বিনল্ডিং(পিষে) নিন। মধু ও নারিকেল তেল একটি পাত্রে নাড়তে থাকুন। কলার পেস্ট তৈরি হয়ে গেলে অপর দুটি উপাদান যোগ করুন। আবার ভালো করে মিক্স করুন এবং কোঁকড়ানো চুলে ব্যাবহার করতে পারেন। কতক্ষণ পর ধুয়ে ফেলবঃ ২০-২৫ মিনিট। প্রয়োগ সময়ঃ সপ্তাহে এক বার ব্যাবহার করাই যথেষ্ট।

৪। লেবু এবং মধু উপকারিতাঃ
রুক্ষ চুল মসৃণ করার উপায় হিসেবে লেবু ব্লিচিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। চুল গোঁড়া থেকে ময়লা এবং গ্রিম অপসারণ করে চুলের কিউটিকল উন্নত করে, কোঁকড়ানো চুল হ্রাস করে। ভিটামিন সি উপাদান সমৃদ্ধ করা ছাড়াও লম্বা চুল পেতে সাহায্য করে। প্রয়োজনীয় উপকরণঃ ২ টেবিল চামচ লেবুর রস ২ টেবিল চামচ মধু ১ কাপ পানি ব্যাবহার পদ্ধতিঃ একটি মাঝারি সাইজের লেবু থেকে দুই টেবিল চামচ লেবুর রস বের করে একটি বাটিতে রাখুন। এতে দুই চামচ মধু দিয়ে হালকা করে নাড়তে থাকুন। মিশ্রণটি তৈরি হয়ে গেলে এতে এক কাপ পানি যোগ করে স্প্রের সাহায্যে চুলের গোঁড়া থেকে শেষ পর্যন্ত স্প্রে করুন। কতক্ষণ পর ধুয়ে ফেলবঃ ১০-১৫ রেখে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। প্রয়োগ সময়ঃ প্রতি দুই সপ্তাহে একবার করে।

৫। অ্যালোভেরা উপকারিতাঃ অ্যালোভেরার সৌন্দর্য অনুভব না করা পর্যন্ত জীবন কখনই সম্পূর্ণ হয় না। এটি আপনার চুলকে ময়শ্চারাইজ করে, সুরক্ষার একটি স্তর যোগ করে, মাথার আর্দ্রতা দূর করে এবং জীবাণু প্রতিরোধ করে। সর্বদা সোজা চুল পেতে ব্যাপক কার্যকর। প্রয়োজনীয় উপকরণঃ ১/৪ কাপ অ্যালোভেরা জেল ১/৪ কাপ যেকোনো হেয়ার অয়েল ব্যাবহার পদ্ধতিঃ একটি টাটকা এলভেরা পাতা থেকে এলভেরা ছাড়িয়ে নিন। জেল পিচ্ছিল হওয়াই ব্লেনডার দিয়ে পেস্ট তৈরি করার পর একটি বাটিতে নিয়ে নিন এবং এতে তেল টি দিয়ে দিন। খুব পাতলা মিশ্রণ হলে প্রয়োগ করতে সহজ হবে আপনার জন্য। কতক্ষণ পর ধুয়ে ফেলবঃ আধা ঘণ্টা। প্রয়োগ সময়ঃ সপ্তাহে ২বার

৬। আপেল সিডার ভিনেগার উপকারিতাঃ স্বাস্থ্যকর চুলের একটি অম্লীয় pH স্তর আছে, যা 4.5 থেকে 5.5 মধ্যে। যখন চুলের পিএইচ ব্যালেন্স এই সীমার মধ্যে থাকে, কিউটিকল বন্ধ এবং চ্যাপ্টা থাকে। যখন চুল খুব ক্ষারীয় হয়ে যায়, কিউটিকল খুলতে থাকে, চুল দুর্বল হতে থাকে এবং কুঁকড়ে যাই। আপেল সিডার ভিনেগার একটি আলফা হাইড্রক্সি এসিড যা সামান্য অম্লীয়। এটি মাথাই থাকা ময়লা অপসারণ করতে সাহায্য

করে, যা চুল উজ্জ্বল দেখাতে পারে। একটি অতিরিক্ত বোনাস হিসাবে, এন্টিব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্য আছে। এটা ডেনড্রাফ কমাতে সাহায্য করতে পারে। প্রয়োজনীয় উপকরণঃ ১ কাপ গরম পানি ১/৩ আপেল সিডার ভিনেগার ব্যাবহার পদ্ধতিঃ এক কাপ হালকা গরম পানি নিয়ে এতে আপেল সিডার ভিনেগার মিক্সড করুন। ৪-৫ মিনিট এটিকে নাড়তে থাকুন। প্যাঁকটি হয়ে গেলে এটি সমস্ত মাথাই ম্যাসেজ করুন। ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। কতক্ষণ পর ধুয়ে ফেলবঃ ১০ মিনিট। প্রয়োগ সময়ঃ সপ্তাহে একবার বা দুইবার ব্যবহার করুন।

Check Also

চুল পড়া বন্ধ ও চুল-ঘন-কালো লম্বা করতে জবা ফুলের তেল

চুল পড়া বন্ধ ও চুল-ঘন-কালো লম্বা করতে জবা ফুলের তেল

আমাদের বাহ্যিক সৌন্দর্যের অন্যতম প্রধান একটি বিষয় হচ্ছে ঘন, কালো উজ্জ্বল, লম্বা চুল। কিন্তু বিভিন্ন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *