Friday , February 26 2021
Home / শিক্ষাঙ্গন / ৩ কি.মি পায়ে হেঁটে টিউশনী করা মেয়েটাই আজ ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে দৃষ্টান্ত গড়ল

৩ কি.মি পায়ে হেঁটে টিউশনী করা মেয়েটাই আজ ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে দৃষ্টান্ত গড়ল

৩ কি.মি পায়ে হেঁটে টিউশনী করা মেয়েটাই আজ ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে দৃষ্টান্ত গড়ল – ক্লাস এইট পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়েননি শিল্পী মোদক। মা-ই ছিলেন তার শিক্ষক। হবিগঞ্জের রামকৃষ্ণ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম ছাত্রী হিসেবে তিনি জুনিয়র বৃত্তি লাভ করেন। সে

সময়কার প্রধান শিক্ষক শিল্পীর নাম স্কুলের দেয়ালে লিখে রাখেন। সেই প্রধান শিক্ষক আজ বেঁচে নেই, কিন্তু তার প্রিয় ছাত্রী শিল্পীর নাম আজও স্কুলের দেয়ালে আছে। সেই মেধাবী শিল্পীই ৩৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। স্কুলের পরীক্ষায় সবসময় প্রথম হয়েছেন শিল্পী। পরিবারে আর্থিক অনটন ছিল, কাপড় সেলাইয়ের কাজ করে মা ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতেন, কিন্তু

ভালো ফলাফলের জন্যই শিল্পীকে স্কুলে বেতন দিতে হতো না; এমনকি শিক্ষকরাই তাকে বই দিতেন। স্কুলে সবসময় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা ও গানে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। ২০০৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর উচ্চমাধ্যমিকে পড়ার সময় দারিদ্র্যকে খুব ভালোভাবে বুঝতে শেখেন। তখন থেকেই টিউশনি শুরু। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তির পর প্রতিদিন মেহেন্দীবাগ এলাকার বাসা থেকে

প্রায় তিন কিলোমিটার হেঁটে কলেজে আসতেন কলেজের শিক্ষকরা আন্তরিক ছিলেন, এদের মধ্যে বিনাবেতনে প্রাইভেট পড়িয়েছেন কয়েকজন। ২০০৮ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় ভর্তি হন শিল্পী। তবে যেহেতু বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলেন, তাই বাংলা ছেড়ে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভর্তি হন উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব ও বীজবিজ্ঞান বিভাগে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় প্রতিদিনই বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত টিউশনি করাতেন নিজের খরচ জোগাড়ের জন্য। অনার্স ও মাস্টার্স, দুটোতেই সিজিপিএ ৩.৯ পেয়ে পড়াশোনা শেষ করেন, আর এই অসাধারণ ফলাফলের জন্য অর্জন করেন রাষ্ট্রপতি স্বর্ণপদক। ইচ্ছা ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন, কিন্তু সার্কুলার না হওয়াতে শুরু করেন বিসিএসের প্রস্তুতি। মাঝে শাহজালাল সিটি কলেজে এক বছর শিক্ষকতা করেছেন।

৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার একমাস আগে চাকরি ছেড়ে দিয়ে দিনরাত পড়াশোনা শুরু করেন। সারাক্ষণ বইয়ে ডুবে থাকতেন দেখে মা-ই তাকে মুখে তুলে খাইয়ে দিতেন। বিসিএসে ধাপে ধাপে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর অবশেষে ফলাফলে তিনি সুপারিশপ্রাপ্ত হলেন

প্রশাসন ক্যাডারে। শিল্পী চান তার মতো মেয়েদেরকে সাহায্য করতে, যারা দারিদ্র্যের সঙ্গে সংগ্রাম করে পড়াশোনা করেন। পাশাপাশি দেশসেবা ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য কিছু করার স্বপ্ন দেখেন। প্রশাসন ক্যাডার তাকে সেই সুযোগ দেবে বলে বিশ্বাস তার।

About By Moni Sen

Check Also

কর্মসাথী প্রকল্পে আবেদন পদ্ধতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স! রইলো খুঁটিনাটি বিষয়

কর্মসাথী প্রকল্পে আবেদন পদ্ধতি, শিক্ষাগত যোগ্যতা – দেশজুড়ে এই করো-নার আ-ব-হে রীতিমতো ব্যবসা গু-টি-য়ে নিয়েছে ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x