Tuesday , June 22 2021
Home / সংবাদ / ১ টি লেপের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে ১৯৫২ সালের ম্যাট্রিক পাস খোদেজা!

১ টি লেপের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে ১৯৫২ সালের ম্যাট্রিক পাস খোদেজা!

১ টি লেপের জন্য রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে ১৯৫২ সালের ম্যাট্রিক পাস খোদেজা! – ‘আ’মারে একটা লেপ দেবে বাবা। আ’মারে একটা লেপ দিও আর কিছু চাই না।’ পরক্ষণেই বিড় বিড় করে বললেন, ‘আমার খা’ওয়ারই কষ্ট, ওষুধ কেনার টাকা নেই। মাসে ৫শ টাকার ওষুধ কিনেও হয় না। কিন্তু টাকার অ’ভাবে আর কি’নতে পারি না। আ’মার চোখে সমস্যা, কানে সমস্যা, পেটে স’মস্যা। পেটের পী’ড়ায় চি’কিৎসা ছাড়া তিন

দিন জ্ঞানহারা ছিলাম। আমার সা’হায্য করার মতো কোনো স্বজন নেই।’ বলতে থা’কেন, ‘স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর একমাত্র মেয়েকে সম্বল করে বেঁচে আছি। ২৫- ২৬ বছর প্রা’ইভেট পড়িয়ে মা- মেয়ে জীবিকা চা’লিয়েছি। এখন আমি অ’ক্ষম, মেয়ে অ’কাল বিধবা। তাই লোকজনের সা’হায্য নিয়ে জীবন চালাই।’ কথাগুলো ব’লছিলেন খোদেজা বেওয়া। পা’বনার সাঁথিয়া উপজেলার গাঙ্গহাটি গ্রামের বা’সিন্দা খোদেজা বেওয়া গাঙ্গহাটি গ্রা’মের মৃ,ত শাহাদত আলি খাঁনের মেয়ে। তিনি ১৯৫২ সালে ম্যা’ট্রিক (এখন এসএসসি) পাস করেন কৃ’তিত্বের

সঙ্গে। শৈ’শবে পা’বনার বেড়া উ’পজে’লার লক্ষ্মীপুর-ঝাউকাদা গ্রামে মা’মাবা’ড়িতে থাকতেন। সেখানে থেকে প’ড়াশোনা করতেন। নাটি’য়াবাড়ী ধো’বাকোলা ক’রোনেশন উচ্চ বিদ্যালয়ে প’ড়াশোনা করেছেন। তাদের প্রধান শিক্ষক ছিলেন আ. রহমান ওরফে ন্যাকা মাস্টার। সেই বিদ্যালয় থেকেই তিনি ম্যা’ট্রিক পাস করেছিলেন। ক্লাসের মেধাবী ছা’ত্রী হিসেবে তার সুনাম ছিল। ওই সময়ে ম্যা’ট্রিক পাস করলে তো চা’করির অভাব ছিল না। তাহলে চা’করি করলেন না কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বনেদি ঘরের মে’য়েদের দিয়ে চাকরি ক’রানো হতো না। তাই তারও চা’করি করা হয়নি।এরপর বিয়ে হয়ে যায় বা’বার বাড়ির গ্রামের আ. সাত্তার মিয়ার সাথে। তাদের সংসারে একটি মেয়েও

হয়। কিন্তু ওই ব্যক্তি আরও ২-৩টা বিয়ে করার পর তাকে তা’লাক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। এরপর শুরু হয় তার জী’বনযুদ্ধ। তিনি দুই বেলা ছাত্র-ছাত্রীদের প্রা’ইভেট পড়িয়ে পেটের ভাত জো’গাড় করতেন। শুধু বাংলা-ইংরেজি নয়, তিনি আ’রবি শিক্ষাও দিয়েছেন বহু শি’শুদের। এখন তিনি বয়’সের ভারে ন্যূব্জ। বয়স কত জা’নতে চাইলে বললেন, সার্টিফিকেট অনুযায়ী জ’ন্মসাল ১৯৩৭। সে হিসেবে ৮৪ বছর। এই বয়সেও তিনি না’মাজ-রো’জা করেন। পবিত্র কো’রআ’ন পাঠ করেন। পবিত্র কো’রআ’ন শ’রীফ, তা’ফসিরু’ল কো’রআ’ন, গঞ্জল আরশ, খায়রুল

হাশর, বহু ন’বীর জীবনী রয়েছে তার কাছে। সেগুলো তিনি পড়েন। তবে চোখে ভা’লো দেখেন না বলে সমস্যা হয়। আর রা’তে তো চোখেই দেখেন না বলে জা’নালেন। চশমা দূ’রের কথা চোখের কোনো চিকিৎসাও করাতে পারেননি। বললেন, কে আ’মাকে ডাক্তার দেখাবে? কে আ’মাকে চশমা বা চোখের ড্রপ কিনে দেবে? আমার তো কেউ নাই রে বাবা! বা’র্ধক্য’জনিত নানা অসুখ বিসুখ তার ‘শ’রীরে বাসা বেঁধেছে। বললেন, চোখে ঠিকমতো দেখতে পারেন না, ঠি’কমতো শুনতে পারেন না, মাথা যন্ত্রণা করে, তার মুখ-গলা শুষ্ক কাঠ যেন। অনেক আগে

এক ডাক্তারের প্রে’সক্রিপশন মো’তাবেক ওষুধ কি’নতেই তার সাধ্যে কুলায় না। মাসে ৫শ টাকার ওষুধই জোগাড় করতে পারেন না। তার খা’বারের কষ্ট প্রতিদিনের। খাবারের সংস্থান করতে যেখানে যুদ্ধ করতে হয়, সেখানে ভালো চি’কিৎসা করানোর কথা তিনি কল্পনাও করতে পারেন না। খো’দেজা বেগম দুঃখ করে বললেন- অভাগা যেদিকে চায়, সাগর শুকিয়ে যায়! একমাত্র অবলম্বন মে’য়েটির বিয়ে দিয়েছিলেন

বাসের সু’পারভাইজা’রের সঙ্গে। কিন্তু কয়েক বছর আগে জা’মাই সড়ক দু’র্ঘ’ট’নায় অকালে মা,রা যান। তার মেয়ে হয়ে যায় বিধবা। তিনি অল্প বয়সে স্বামী প’রিত্যক্তা আর তার মেয়ে অল্প বয়সে হ’য়েছেন বিধবা। একটি বিধবা কার্ড রয়েছে তার। সেটার টাকা নি’য়মিত পাওয়া যায় না আর পেলেও ওই টাকা তো তার ওষুধ কিনতেই শেষ হয়ে যায়। আবার কার্ড ঠিক করার জন্য মাঝে মধ্যে অ’ফিসে অফিসে ঘুরতেও হয়।

About Moni Sen

Check Also

মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফুটিয়ে আবার টানা ৩ দিন কমলো সোনার দাম, জেনে নিন নতুন বাজারদর

মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফুটিয়ে আবার টানা ৩ দিন কমলো সোনার দাম, জেনে নিন নতুন বাজারদর

মধ্যবিত্তের মুখে হাসি ফুটিয়ে আবার টানা ৩ দিন কমলো সোনার দাম, জেনে নিন নতুন বাজারদর- ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *