Monday , July 26 2021
Home / দেশ-বিদেশ / ১২ টি আম বিক্রি করে লাখপতি হলেন হতদরিদ্র তুলসী…..পূরন হল বহুদিনের স্বপ্ন

১২ টি আম বিক্রি করে লাখপতি হলেন হতদরিদ্র তুলসী…..পূরন হল বহুদিনের স্বপ্ন

যেদিন থেকে এই করো’না নামক ভ’য়ানক মহা’মা’রী আমা’দের দেশে এসে হাজির হয়েছে সেদিন থেকে মানুষের জীবনে নেমে এসে ঘোর অন্ধকার। উচ্চবিত্তরা তাঁদের জীবন যাত্রা সহজ সরল ভাবে চালিয়ে নিতে পারলেও দোটানায় পড়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা। আর তাঁর মধ্যেই

স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শুরু হয়েছে অনলাইন ক্লাসের পর্ব। কিন্তু যাদের পেটে দুবেলা-দুমুঠো অন্নই পরে না ঠিক মতো তাঁদের আবার অনলাইন ক্লাস কিসের? এভাবেই দেখা গেছে অনেক পড়ুয়াই পড়াশোনা ছেড়ে নানান রকমের কাজে ঢুকে পড়েছে কেবলমাত্র পেটের খিদে

মেটাবার জন্য। আর সেই তালিকায় বাদ যায়নি ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের তুলসী কুমা’রী নামের এক কিশোরী। স্মা’র্টফোন না থাকায় পড়াশোনা ছেড়ে আম বিক্রয়ের পেশায় নেমে পড়ে তুলসী। কিন্তু তাঁর এই আম ই তাঁকে দেখালো লক্ষীর মুখ। এনে দিল জীবনের সকল আনন্দ। মুম্বাইয়ের এক ব্যবসায়ী তাঁর কাছ থেকে কিনলো এক ডজন অর্থাৎ ১২ টা আম। আর তাঁর সেই আমের মূল্য হিসেবে যে দাম দিল তা আপনি

কল্পনাও করতে পারবেন না। ওই ব্যক্তি আমের মূল্য হিসেবে তুলসী কে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেয়। আর সেটা পেয়ে উচ্ছাসিত ওই কিশোরী। এমনকি পায় ১৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি ফোনও। আর এবার থেকে আর তাঁকে আম ও বেচতে হবেনা। হাতে মোবাইল পেয়ে বেজায় খুশি তুলসী। তার বহুদিনের স্বপ্ন এতদিনে পূর্ণ হল। এবার সে সকলের মতো অনলাইন ক্লাস করতে পারবেন। কিন্তু মুম্বাইয়ের ওই ব্যক্তির কাছে

তুলসীর কাছে পৌঁছনো অতটা সহজ ছিল না। একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের ডিজিটাল প্লাটফর্মে ওই কিশোরীর জীবন পথে লড়াইয়ের কাহিনী সম্প্রচার করা হয়। আর সেখান থেকেই মুম্বাইয়ের ভ্যালুয়েবেল এডুটেন্মেন্টের কর্ণধার অমেয় মেটে ওই কিশোরীর ব্যাপারে জানতে পারেন। আর তারপর সে তুলসীকে সাহায্য করার ইচ্ছে প্রকাশ করলে ওই টিভি চ্যানেলের মা’রফত যোগাযোগ করা হয়। এরপর ওই ব্যক্তি

তুলসীর বাবার একাউন্টে পাঠিয়ে দেয় টাকা। ওই ব্যক্তি প্রতিটি আম ১০ হাজার টাকা মূল্য হিসেবে কিনে নেয়। ফোন এর পাশপাশি তিনি তাতে রিচার্জ ও করে দেন। এমনকি জানান যে, তুলসীর পড়াশোনার জন্য তিনি বছরভর এই নেটের রিচার্জ বহন করবেন। তিনি আরও বলেন যে, ‘ তুলসী অত্যান্ত পরিশ্রমী পড়ুয়া। আমা’দের দেওয়া সাহায্যে সে যদি নিজের পড়াশোনা শেষ করতে পারে তাহলে আমর’া খুশি হবেন ভবি’ষৎ

এও যখনই প্রয়োজন পড়বে আমর’া সাহায্য করে যাব’’। নতুন ফোন পেয়ে খুশি তুলসী। এমনি খুশি তাঁর মা-বাবা ও। তুলসির বাবা বলেন যে, তিনি চান তাঁর মেয়ে পড়াশোনা শিখে বড় হোক। আর এবার ফোন ও টাকা পাওয়ার পর তাঁদের মেয়ের পড়াশোনায় আর কোন বাধা আসবে না বলেই মনে করছেন তুলসীর বাবা-মা। পৃথিবীতে অমেয় মেটে র মতো বড় হৃদয়ের মানুষ এখনও আছে বলেই আজও তুলসীর মতো

মেয়েরা স্বপ্ন দেখে। বাঁচতে শেখে। নিজের লড়াইয়ে জয়ী হয়। আর একটা কথা না বললেই নয় যে, অনেকেই আছেন যারা সংবাদ মাধ্যমকে গালমন্দ করতে দুবার ভাবেন না। কিন্তু মনে রাখবেন ভালো-মন্দ এই দুই নিয়েই জীবন। আর সংবাদ মাধ্যম গু’লো আছে বলেই আজও অভাবী ছেলে-মেয়ে গু’লো আলোর হদিস পায়। যেমন তুলসী পেয়েছে অমেয় মেটে র মতো একজনকে। যার এক চিলতে আলোয় সে ভবি’ষ্যতে আলোকিত করবে তাঁর জীবন সহ তাঁর বাবা-মা এর জীবনকে।

Check Also

সন্তানের জন্য ৪৩ বছর ধরে পুরুষ সেজে রইলেন মা, ‘দেশের সেরা মা’ সম্মানে ভূষিত করল সরকার

সন্তানের জন্য ৪৩ বছর ধরে পুরুষ সেজে রইলেন মা, ‘দেশের সেরা মা’ সম্মানে ভূষিত করল সরকার

কথায় বলে, একজন মাকে মা হয়ে ওঠার জন্য দিতে হয় অনেক বলিদান। সন্তানের জন্য মা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *