Tuesday , October 27 2020
Home / শিক্ষাঙ্গন / হাত ধুলেই তবে পাবেন ফুচকা; সঙ্গে অ্যাকোয় গার্ডের তেঁতুল জল
image: google

হাত ধুলেই তবে পাবেন ফুচকা; সঙ্গে অ্যাকোয় গার্ডের তেঁতুল জল

কি? এ দোকানে খাবার অর্ডার করতে চান? মাটন, চিকেন, প্রণ, ফুচকা অর্ডার করতে হলে আপনাকে ২ দিন আগে অর্ডার দিয়ে রাখতে হবে। নতুবা আপনার চাঞ্চ নেই। কখনো কি দেখেছেন রোগীর পথ্য হিসেবে ফুচকা চেখে? ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আলুর পরির্বতে কাঁচা কলার পুর দিয়েও ফুচকা মেখে রেখে দেওয়া হয় এই দোকানে।

একেক শহরে একেক নাম এই ফুচকার কোথাও পানিপুরি, কোথাও গোলগাপ্পা। তবে স্বাদও হয়ে থাকে নানা রাকম। আর বাংলায় এটির নাম হলো ফুচকা। বাঙ্গালির নিকট ফুচকা মানেই হলো একটা মোহনীয় আবেগ, একটা মোহনীয় ফেনোমেনা। মফ:স্বলের তে মাথার মোড়ে মোড়ে ফুচকাওয়ালাদের ভিড়ভাট্টায় পাওয়া যায় আলাদা একটা গল্প।

এই গল্প কলকাতা শহরেও এমনি। তবে শহরের ভিড় একটু বেশিই থাকে। আর এই ফুচকার গল্পও হয় ভিন্ন ভিন্ন। আজ আপনাদের শোনাব কলকাতা শহরের বুকে প্রায় ৪৫ বছর ধরে ব্যতিক্রমি ফুকচা সৈনিকের গল্প।

দীলিপ দার দোকান সাদার্ন অ্যাভিনিউ এ্র বিবেকানন্দ পার্কে। অনেকে হয়ত চিনে থাকতে পারেন তার দোকান। ৪ দশকের বেশি সময় ধরে দক্ষিণ কলকাতার বিকেলের রং বদলে দিচ্ছে এই মানুষটা। কত সুখ, দু:খ এর সাক্ষী হয়ে রয়েছে দীলিপ দা। প্রায় ৪ দশক আগে উদ্বস্তু হয়ে এই কলকাতা শহরে বাবার হাত ধরে প্রবেশ করেন দীলিপ দা। বিহারের মানুষ তিনি জন্মসূত্রে। এরপর কলকাতার জনস্রোতে নিজেকে উজার করে দেন। ঠিক যেমন নদীর ঢেউ নিজেকে নদীর কাছে উজার করে দেয়।

আপনি যদি দীলিপ দার দোকানে খেতে চান তবে আপনাকে সাবন দিয়ে হাত ধয়ে বসতে হবে। এরপর ঠেলার এক পাশে রাখা অ্যাকোয় গার্ড। সেখান হতে ফিলটার হওয়ার পর বোতলে বোতলে জল ভরে বিশুদ্ধ জল। তবে সেই জলে তেঁতুল মিশিয়ে তৈরি হয় ফুচকার টক জল!

বিকেল হওয়ার আগেই দীলিপ দা চলে আসেন বিবেকানন্দ পার্কের গলিতে। কোনদিন তার সাথে আসে তার ছেলে, কোনদিন বা তার মেয়ে কিংবা তার বউ। হাতে হাত রেখে কাজ এগিয়ে রাখেন সবাই মিলেমিশে। তবে জানেন কি যুগে যুগে একরকম সেলিব্রেটির খেতাব পেয়েছেন দীলিপ দা।

কলকাতা শহরে প্রথম চালু করেন আমিষ ফুচকার দোকান। এখানে পাবেন দই ফুচকা, ডাব ফুচকা, চকোলেট ফুচকা, ভুট্টার ফুচকা, টক-মিষ্টি-ঝাল ফুচকাসহ রকমারী বাহারী ফুচকা! আপনি হয়ত জানেন না মিত্তল পরিবারের বিয়েতে চেন্নাইয়ে এর তাজ হটেলেও এসেছে দীলিপ দার ফুচকা।

মহারাজা চাট সেন্টারে বিকেল হতে আস্তে আস্তে লোজ জমায়েত বাড়তে থাকে। কেউ এসেছে পুরোনো বন্ধুকে নিয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করতে, কেউ আবার কলকাতা এয়ারপোর্ট এ নেমে সোজা চলে এসেছেন দীলিপ দার দোকানে। তবে যদি কারো নিয়মিত যাতায়াত থাকে তবে তা দীলিপ দা ঠিকই মনে রেখে দেন। কার ফুচকায় ঝাল বেশি , কার ফুচকায় লবণ বেশি, কার আবার ধনে পাতা ছাড়া ফুচকা, সবই মনে রাখেন তিনি।

এরপর তাদের সাথে কুশল বিনিময়ও করতে ভুল করেন না দীলিপ দা, কে কবে কলকাতা ছাড়ছে আবার কবে কলকাতা আসবে। এই বিশাল শহরের জনস্রোতে কে কার খবর রাখে বলুন? কিন্তু এই মানুুষটা ঠিক চেষ্টা করে পরিচিতজনদের খবর রাখতে। এতকিছু ভাবতে ভাবতে আলো আধাঁরীতে দিনের বেচাকেনা শেষে রাতে বন্ধ হয়ে যায় দীলিপদার দোকান । আবার প্রস্তুতি পরদিনের জন্য।

Check Also

উত্তর প্রদেশের পড়ুয় ১০০ কোটি পর্যন্ত নামতা পড়তে পারে! গিনেস বুকে নাম লেখাতে চলেছেন

উত্তর প্রদেশের পড়ুয় ১০০ কোটি পর্যন্ত নামতা পড়তে পারে! গিনেস বুকে নাম লেখাতে চলেছেন- চিরাগ ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
error: Content is protected !!