Friday , February 21 2020
Home / অন্যান্য / স্কুলছাত্রী ভ্রমণে গিয়ে হারানো দাদীকে খুঁজে পেলেন বৃদ্ধাশ্রমে!
Image: google

স্কুলছাত্রী ভ্রমণে গিয়ে হারানো দাদীকে খুঁজে পেলেন বৃদ্ধাশ্রমে!

পৃথিবী কত নিষ্ঠুর! কত বিচিত্র ঘটনা ঘটে এই পৃথিবীতে! মস্ত ফ্লাটে বৃদ্ধ মা-বাবার স্থান হয়ন! অথচ সেই গর্ভধারিনী মা সন্তানকে ১০ মাস ১০ দিন ছোট্ট গর্ভে লালন-পালন করেন। সময়ের পরিক্রমায় সবকিছুই বদলে যায়। অথচ বর্তমান সমাজের মানুষরা কতই বেঈমান ও স্বার্থপর নিজের মা-্বাবাকে ছুড়ে ফেলে দেই বৃদ্ধাশ্রমে!

শুনুন সেই হৃদয়বিদারক কাহিনী। একদিন স্কুল হতে ভ্রমণের একটা বৃদ্ধাশ্রমে গিয়েছিলেন দিতি নামের স্কুলছাত্রী। কাকতালীয়ভাবে সেখানেই সে তার আপন দাদীকে খুঁজে পান। দাদীমাকে বুকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন দিতি নামের সেই স্কুল ছাত্রী।

দিতি তার বাবা-মাকে ছোট হতে দেয়ালে পেরেক দিয়ে আটকানো ধুুলো ময়লা মাখানো ছবিটা দেখে অনেকবার জিজ্ঞাসা করেছিলেন তার দাদীর কথা। তার উত্তরে দিতির বাবা-মা তাকে জানিয়েছে তার দাদী অন্য আত্মীয়দের সাথে থাকে। দিতি অনেকবার বলেছিল সে তার দাদীকে দেখবে।

কিন্তু তার বাবা-মা তাকে কখনো তাকে নিয়ে যায়নি তার দাদীর কাছে। স্কুল বাসে করে ভ্রমণে যাওয়ার দিতি যখন ঘোলাটে চশমায় বারান্দায় হেলান দিয়ে বসা বৃদ্ধাকে দেখে, সে তার বাড়ির ছবিটির সাথে আংশিক মিল খুঁজে পায়। দিতি স্কুল শিক্ষকদের বলে বাস দাঁড় করিয়ে নেমে গিয়ে বৃদ্ধাকে জিজ্ঞাসা করে।

দাদি ততক্ষণে নাতনীর পরিচয় পেয়ে ঘোলাটে চশমাটা খুলে টল টল চোখে নাতনিকে বুকে জড়িয়ে ধরে। আমার ছেলের আলিশান ফ্লাটে আমার জায়গা হয়নি। আর বৌমাও আমাকে সহ্য করতে পারত না। আমিতো বুড়িয়ে গেছি! তোর বাবাকে আমি কত কষ্ট করে লালন-পালন করেছি।

তোর বাবাকে পড়াশুনা পর্যন্ত আমাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। কখনো বিন্দুমাত্র আঁচড় লাগতে দেইনি তোর বাবাকে। নিজেরা কষ্টে থেকে তাকে সবসময় ভালো রাখার চেষ্টা করেছি। বড় হওয়ার তাকে বলেছিলাম আমাকে যেন ভুলে না যায়।

কিন্তু বুঝতে পারিনি সে এত বড় হয়ে গেছে! আর নিজের বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়েছেন। তোর বাবা-মা এরও তো ভাবা উচিৎ যে তারাও একসময় বৃদ্ধ হবে তখন তাদের কী হবে! যাক তোর বাবা মস্ত বড় হয়ে গেছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!