Home / স্বাস্থ্য / লবঙ্গ খেলেই এই ৮ টি রোগের খেল খতম হবে নিমিষেই
Image: google

লবঙ্গ খেলেই এই ৮ টি রোগের খেল খতম হবে নিমিষেই

লবঙ্গ এক প্রকার মসলা হিসেবে পরিচিত। আদিকাল হতে লবঙ্গ চিকিৎসাশাস্ত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে সুুনামের সাথে। এই গাছের ফুলের কড়িকে শুকিয়ে লবঙ্গ উৎপন্ন করা হয়। লবঙ্গ বর্তমানে প্রায় সব রকমের খাদ্যদ্রব্যে সমলা হিসেব খাবার এর সাধ সুস্বাধু করে থাকে। এই মসলার আদি নিবাস হলো ইন্দেনেশিয়াতে, তবে বর্তমানে এটি বিশ্বের প্রায় সকল দেশে মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ব্যাপকভাবে।

লবঙ্গ নিয়ে যুদ্ধেরেও ইতিহাস রয়েছে। ১৪ শতকের মাঝামাঝি সময়ে তুমুল লড়াই চলছে বিভিন্ন দেশে। সেই যুদ্ধের প্রধান করণ হলো এই লবঙ্গ। ইন্দেনেশিয়ার যে দ্বীপে লবঙ্গের চাষ হয়, সে স্থানের অধিকার কোন দেশের উপরে থাকবে, তা নিয়ে তুমুল যুদ্ধ বেঁধে যায়। সেই যুদ্ধে কয়েক বছর পর নেদারল্যান্ড বিজয়ের পতাকা উড়াতে সক্ষম হন। তখন হতে লবঙ্গের উপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ ইউরোপীয়দের হাতে। সময় অনেক পরির্বতন হয়েছে তবে কিন্তু লবঙ্গের গুরুর্ত্ব মোটেও কমেনি বরং দিনে দিনে বেড়ে চলেছে।

প্রতি ১০০ গ্রাম লবঙ্গে রয়েছে ৬৬ গ্রাম কার্বো হাইড্রেট, ৫ গ্রাম, প্রোটিন, ১৪ গ্রাম লিপিড ও ২ গ্রাম চিনি, রয়েছে ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম, সোডিয়াম, জিঙ্ক, পটাশিয়ামসহ আরও নানা প্রকার ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। যা শরীরের জন্য খুবই উপকারি। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক কয়েকটি লবঙ্গ মুখে দিলে নিমেষেই সেরে যাবে যে সব রোগ:

১। ডায়াবেটিস নিয়ন্তণ: একাধিক গবেষনায় প্রমাণিত যে লবঙ্গের মধ্যে রয়েছে এমন কিছু কার্যকারি উপাদান যা শরীরে প্রবেশ করার সাথে সাথে ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে শুরু করে দেয়। যারফলে ন্যাচারলি রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় এবং ডায়াবেটিস থাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।

২। জ্বর কমাতে: লবঙ্গে বিদ্যামান ভিটামিট কে এবং ই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এতাটাই শক্তিশালী করে যে, শরীরে উপস্থিত সব মারা যায়। যার কারণে ভাইরার ফ্লু বা ফিভারের প্রকো কমতে সময় লাগে না। এতে রয়েছে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যা জ্বরের পর পুনরায় আক্রান্ত হওয়র সম্ভবনা থাকে না।

৩। আর্থ্রাাইটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে: লবঙ্গে এর অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি প্রপাটিজ হাড়ের নানা প্রকার রোগ সারিয়ে তুলতে পারে। এ জন্য ১ কাপ লবঙ্গ চা বানিয়ে কয়েক ঘণ্টা ফ্রিজে রেখে দিয়ে, সেই ঠান্ডা চা ব্যথার স্থানে ২০ মিনিট ধরে মালিশ করুন । দেখবেন আপনার ব্যাথা কমে একবারে কমে গেছে।

৪। হজম শক্তি বৃ্দ্ধি করে: রাতের খাবার বা দুপুরের খাবারের আগে লবঙ্গ দিয়ে বানানো ১ কাপ গরম চা খেলে তা আপনার হজম শক্তিকে কয়েকগুণ বৃদ্ধি করবে। কেননা এই গরম চা আপানর অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাবে। তাই যাদের ঝাল, লবন, তেল পেটে তেমন সহ্য হয় না তারা এই পদ্ধতিতে হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে পারেন।

৫। দাঁতের ব্যথা কমাতে লবঙ্গ: লবঙ্গের অ্যান্টি ইনফ্লেমেটারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করা মাত্র এমন কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে যা দাঁতের ব্যথা নিমিষেই কমে যায়। ঠিক দাঁত সুলানো, দাঁতের মাড়ি ফোলাতেও লবঙ্গ ঠিক একই রকম কার্যকরী একটি প্রাকৃতিক ওষুধ । তাই রোজ সকালে একটি করে লবঙ্গ মুখে দিয়ে চিবানোর অভ্যাস করুন।

৬। লিভারের কার্যকারিতা বাড়ায়: লবঙ্গের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট লিভারের অন্দরে জমে থাকা সব দূষিত পদার্থ দূর করে দেয়। ফলে আপনার লিভারের কর্মক্ষমতা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। এছাড়াওে এতে রয়েছে হেপাটোপ্রকটিভ নামক উপাদান যা লিভারের অন্যান্য সমস্যা দূর করে থাকে।

৭। ত্বকের সংক্রামণে: ত্বকের যে কোন প্রকার সংক্রামণে নিশ্চিন্তে ক্ষতস্থানে লবঙ্গ চা লাগাবেন। কিছুক্ষণ পর দেখবেন ক্ষত এর সমস্যা সারতে শুরু করেছে। লবঙ্গে উপস্থিত ভোলাটাইল তেল শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দিয়ে থাকে এবং শরীরে নানা প্রকার জীবানু ধ্বংস করে থাকে। যার ফলে সংক্রামন জনিত সমস্যায় কষ্ট কম হয়।

৮। সাইনোসাইটিস: যাদের সাইনাসের সমস্যা রয়েছে তারাই জানে এর যন্ত্রনা কতটা কষ্টের। লবঙ্গের ইগুয়েনাল নামক উপাদান যে কোন ধরণের সাইনাসের কষ্ট কয়েক মিনিটেই কমিয়ে দেয়। শুধু সাইনাসের সমস্যাই নয় যে কোন প্রকার মাথা ব্যথাতেও সমানভাবে কাজ করে। তাই তো আয়ুর্বেদ চিকিৎসকরা লবঙ্গের সাহয়তা নিয়ে চিকিৎসা দিত।

Check Also

এই 2 টি ফল ভুলেও একসাথে খাবেন না! সন্তান হিজড়া হয়ে জন্মাবে

এই দুটি ফল ভুলেও একসাথে খাবেন না! সন্তান হিজড়া হয়ে জন্মাবে – হিজড়া কারা? সাধারণত ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
error: Content is protected !!