Tuesday , October 20 2020
Home / সংবাদ / রোজ প্রায় ১৮০মানুষের মুখে খাবার তুলে দেন কলকাতার এই মহান পুলকার চালক
Image: google

রোজ প্রায় ১৮০মানুষের মুখে খাবার তুলে দেন কলকাতার এই মহান পুলকার চালক

পার্থ চৌধুরী যার বসবাস কলকাতর কালীঘাট এলাকায়। পেশায় তিনি একজন পুলকার চালক। রোজ সকালে ছোট ছোট শিশুদের নিরাপদে পৌঁঁছ দেন স্কুলে। মূলত এটিই তার নিত্যদিনকার কাজ। অথচ সন্ধ্যার পর তিনি হয়ে যান ঠিক অন্যরকম এক মহান মানুষ! এ সমাজে এমন মানুষের দেখা পাওয়া দুষ্কর!

নিজের গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন শহরের বিভিন্ন হোটেল ও দোকানের উদ্দেশ্য। এসব হোটেল ও দোকান হতে সংগ্রহ করেন উদ্বৃত্ত খাবার এবং সেই সব খাবার পৌঁছে দেন বেশ কিছু সরকারি হাসপাতালের রোগী ও তাদের আত্ময়ীদের হাতে। যেন তারা অভুক্ত অবস্তায় দিন না কাটান।

ব্যক্তিগত জীবনে তার পরিবারে রয়েছে বাবা-মা, স্ত্রী ও কন্যা সন্তান। নিম্ন আয়ের মানুষ হয়েও তিনি শুধু নিজের পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি এই সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার কথাও ভাবেন। এই সমাজের যেসব মানুষ দু বেলা দু মুঠো ভাত পেটপুরে খেতে পারের না।

তাদের বিষয়টিও তার মাথায় সদা সর্তক। তাদের জন্যও তিনি সংগ্রহ করে দেন খাবার। তিনি পেশায় পুলকার চালক হলেও তার কাজের সময়ের বাইরে তিনি এই মহান কাজটি করে যাচ্ছেন দীর্ঘদিন ধরে। তিনি কোন খ্যাতি বা সুনামের জন্য মহান কাজটি করেন না । তিনি এই কাজটি করেন নিজের মনুষত্ব্যবোধ হতে।

রোজ সকালে উঠে তিনি নিত্যদিনের মত স্কুলের শিশুদের সময়মত ও নিরাপদে স্কুলে পৌঁছে দেন ও বাকি যাত্রীদেরও তিনি তাদের গন্তব্যে পৌঁছে দেন। কাজ শেষে সন্ধ্যের পর তিনি নিজেই বেরিয়ে পড়েন শহরের বিভিন্ন হোটেল ও রোস্তরায় এবং সেখান হতে উদ্বৃত্ত খাবার শুদ্ধ পাত্রে সংগ্রহ করে বেরিয়ে পড়েন সেসব ক্ষুধার্থ মানুষদের পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য।

পার্থ চৌধুরীর কর্মকাণ্ড মূলত চলে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে, যেখানে অনেক গরীব মানুষ তাদের আত্মীয়দের চিকিৎসা করাতে আসেন। যাদের বেশির ভাগেরই দু বেলা খাবার জোটে না। সেখানে তিনি রোগী ও রোগীর সাথে আসা স্বজনদের খাবার জোগার করে দেন। তার এই মহান কাজের সাক্ষী হতে চাইলে আপনাকে যেতে হবে যে কোন দিন রাত ১০ টায় এসএসকেএম শম্ভুনাথ আর ক্যান্সার হাসপাতাল চত্তরে। এখানে আপনি চলে আসুন যে কোন দিন । স্বংয় নিজের চোখে দেখুন এই মহান মানুষটির মহান কাজটি।

পার্থ চৌধুরী জানান, প্রথম দিকে অল্প কিছু মানুষ দিয়ে কাজটি শুরু করেছিলাম তবে এখন সংখ্যাটি বেড়ে প্রায় ২০০ এর কাছাকাছি। সত্যি কারো পেটের ক্ষুধা নিবারণ করার মত আনন্দের কাজ এই পৃথিবীতে নেই। এই মহান কাজটির সাথে অংশীদার হয়েছেন তার পুলকার চালক পার্থ চৌধুরী। তাকে এ কাজে সহায়তা করে মেডিকেল কলেজের ছাত্র বল্লরী, শুভম, আকাশ।

প্রতি সপ্তাহে সোম হতে শনি তিনি এই কাজ করে আবার রবিবার চলে যান আশেপাশের গ্রামে। সুন্দরবন, পুরলিয়া এলাকার গরীব মানুষদের তিনি চাল, ডাল, জামা, কাপড় পৌঁছে দেন। কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে তার কাজ বন্ধ থাকে না। কাজ চলে কাজের নিয়মেই।

পার্থ বাবু আরও জানান, আমদের ফান্ডে কোন টাকা নেই। আমরাও কারো নিটক হতে কোন প্রকার টাকা পয়সা নেই না। তবে কেউ যদি দ্রব্য সামগ্রী দিয়ে আমাদের সহায়তা করেন আমরা তা সাদরে গ্রহণ করে থাকি। যদি আমাদের টিমে আর মানুষ যোগ দেয় তাহলে আমরা আরও বেশি মানুষের মুখে খাবার তুলে দিতে পারব। পার্থ চৌধুরির সাথে যোগাযোগ করবেন যে নম্বরে: 9674010626। আপনি চাইলে হতে পারেন পার্থ চৌধুরীর পথে সাথী।

Check Also

শাশুড়ির কোলে চড়লেন জামাই!

শাশুড়ির কোলে চড়লেন জামাই! – শাশুড়ির কোলে জামাই! বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন জায়গার মানুষের বিভিন্ন রকম ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
error: Content is protected !!