Thursday , August 5 2021
Home / উদ্যেক্তা / মেয়ের স্মৃতি কে বাঁচিয়ে রাখতে কোম্পানি খুলে বাড়ি বাড়ি ওয়াশিং পাউডার বিক্রি করে 25000 কোটি টাকার মালিক

মেয়ের স্মৃতি কে বাঁচিয়ে রাখতে কোম্পানি খুলে বাড়ি বাড়ি ওয়াশিং পাউডার বিক্রি করে 25000 কোটি টাকার মালিক

ওয়াশিং পাউডার বর্তমান সময়ে প্রয়োজনীয় জিনিসের মধ্যে পড়ে। আপনি কি জানেন এই ব্যবসার মধ্যে দিয়ে এক বাবা তাঁর মেয়েকে চির অমর করেছেন। কয়েক বছর আগে টেলিভিশনের পর্দায় একটা বিজ্ঞাপন আসত ওয়াশিং পাউডারের। ছোটো-বড় সকলেই সেই গান

গুনগুনিয়েছে সেই সময়ে। মনে পড়ে? “দুধ সি সাফেদি নিরমা সে আয়ে। রঙ্গিন কপড়া ভি খিল খিল যায়ে। সবকো পসন্দ নিরমা, ওয়াশিং পাউডার নিরমা”। হ্যাঁ আমরা কথা বলছি নিরমা ওয়াশিং পাউডারের ব্যপারে। এই বিজ্ঞাপনটিতে একটি মেয়েকে দেখা যেত। অনেকেই হয়তো

জানেন, যারা জানেন না তাঁদের বলে রাখি মেয়েটি ছিল নিরুপমা। যার নামে “নিরমা ওয়াশিং পাউডার” এর ব্যবসা। আসলে নিরুপমা যখন ছোটো ছিল স্কুল থেকে ফেরার সময় গাড়ি এ-ক-সি-ডে-ন্টে মা-রা যায়। করসান ভাই ও তাঁর পরিবারের ওপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। করসান ভাই তাঁর মেয়েকে ভীষণ ভালো বাসতেন। মেয়ের এই ভাবে চলে যাওয়াকে মেনে নিতে পারছিলেন না। এরপর তিনি মেয়ের নামে শুরু

করেন “নিরমা” ওয়াশিং পাউডারের ব্যবসা। মেয়ের স্মৃতি বজায় রাখতে পাউডারের প্যাকেটে মেয়ের ছবি প্রিন্ট করান। ১৯৬৯ সালে এই ব্যবসার শুরু হয়। এই ব্যবসা শুরু করেন গুজরাটের করসান ভাই পাটেল। মেয়ের মৃ-ত্যু-র পর তিন বছর ধরে এই পাউডারের ফর্মুলা তৈরি করেন। এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠিত করা মোটেও সহজ ছিল না। করসান ভাই যখন সাইকেল চালিয়ে চাকরিতে যেতেন তখন আশেপাশের বাড়িতে বিক্রি করার

চেষ্টা করতেন এই পাউডার। সেই সময়ে গুড়ো পাউডার বাজারে লঞ্চ করেছিল। কিন্তু দাম ছিল ১৫ টাকা কেজি। অপরদিকে করসান ভাই “নিরমা ওয়াশিং পাউডার” মাত্র সাড়ে তিন টাকা কেজিতে বিক্রি করতেন।মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মানুষদের এই পাউডার ভালো লাগতে শুরু করে। এরপর হেমা, রেখা, জয়া আর সুষমারও এই পাউডার পছন্দ হয়ে যায়। একজন মানুষের দ্বারা তৈরি এই পাউডারের

কম্পানিতে আজ ১৮০০০ লোক কর্মরত। ৭০০০০ কোটির বেশি টার্নওভার এই কম্পানির।করসান ভাই বেশির ভাগ গুজরাতির মতো চাকরি না করে নিজের ব্যবসা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু পারিবারিক অবস্থার জন্য তাঁকে একটি ল্যাবে এসিসটেন্ট এর চাকরি করতে হয়। এরপর তিনি গুজরাট সরকারের খনন ও ভূবিজ্ঞান বিভাগে চাকরি পেয়ে যান। ১৯৯৫ সালে তিনি আহমেদাবাদে নিরমা ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর ২০০৩ সালে ইন্সটিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট এবং নিরমা ইউনিভার্সিটি অফ সায়েন্স এন্ড টেকনোলজি স্থাপন করেন। তিনি নিজের মেয়ের নাম আজ লোকের মুখে মুখে ছড়িয়ে দিতে সমর্থ হয়েছেন।।

Check Also

অষ্টম শ্রেণি ফেল তৃষিত মাত্র ২২ বছরেই কোটিপতি!

অষ্টম শ্রেণি ফেল তৃষিত মাত্র ২২ বছরেই কোটিপতি!

একজন মানুষ কত বছর বয়সে সফল হন কিংবা নিজের পায়ে দাঁড়ান? ২৫, ২৮ বা ৩০? ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *