Thursday , August 5 2021
Home / উদ্যেক্তা / মাশরুম চাষে অভাবনীয় সাফল্য! বছরে ৫ কোটি টাকা আয়

মাশরুম চাষে অভাবনীয় সাফল্য! বছরে ৫ কোটি টাকা আয়

মাশরুম চাষ করে বছরে ৫ কোটি টাকা আয় করেন এই মহিলা, জেনে নিন কিভাবে..- অভিবাসন আমাদের দেশের একটি বড় সমস্যা। গত কয়েক দশক ধরে ইউপি, বিহার, উত্তরাখণ্ড, রাজস্থানের মতন রাজ্যের লোকেরা পালাতে বাধ্য হয়েছে। এর প্রধান কারণ হলো তাদের কাছে

চাকরি নেই।উত্তরাখণ্ডের প্রকৃতি দেখে মানুষ সমস্যায় পড়েছে। রাজস্থানের বালুকাময় জমিতে কিছুই জন্মায় না। ইউপি বিহারের মতন বড় রাজ্য চাকরির জন্য কারখানা সংস্থার অভাব রয়েছে।সুতরাং সেখান থেকে অনেক লোক ধনী রাজ্যের দিকে এগিয়ে চলেছে। তবে অন্যান্য রাজ্যে ও তাদের ঝামেলা কমছে না। সেখানে তাদের বিনা পারিশ্রমিকের শ্রমিক বানানো হচ্ছে। আমরা লকডাউন চলাকালীন সময়ে আরও বেশি করে

দেখেছি যে অন্যান্য রাজ্যের লোকেরা কিভাবে তাদের বাড়ি যেতে প্রতি পদে হোচট খাচ্ছিল। শহরে তাদের জীবিকার সংকট ছিল এবং গ্রামে যাওয়ার জন্য রেল বাস বন্ধ ছিল। কিছু অনুরূপ পরিস্থিতি দেখে উত্তরাখণ্ডের একটি মেয়ের দিব্যা রাওয়াত মন খারাপ করে ফেলল। ফলস্বরূপ তিনি তার চাকরি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং তিনি এই অভিবাসন বন্ধ করলেন। এই যাত্রা বন্ধ করতে তিনি যা করেছেন তার

প্রশংসা মুখ্যমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত সকলে করেছেন। দিব্যা রাওয়াত উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা। তিনি এমিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সামাজিক কাজের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।দিব্যা এরপরে একটি এনজিও তে যোগদান করেছিল। সেখানে মানুষের মানবাধিকার ইস্যুতে তাদের সচেতন করতে কাজ করা হয়। এদিকে 2013 সালে উত্তরাখণ্ড ভেসে যায়। যার কারণে অনেক লোককে সেখান থেকে পালাতে হয়েছিল। এইসব ঘটনা

দেখে দিবার মন খুব খারাপ হয়ে যায়। তিনি এটি বন্ধ করতে চেয়েছিলেন যার কারণে দিব্যা একটি পরিকল্পনা করেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক কি সেই পরিকল্পনাটি। মাইগ্রেশন বন্ধ করতে দিবা চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং এরপর তিনি রাজ্যের মানুষকে স্থানীয় কর্মসংস্থান দেওয়ার জন্য একটি প্রচার শুরু করেছিলেন এবং মাশরুম চাষ করা শুরু করেছিলেন।মাশরুমের একটি প্রসেসিং ইউনিট স্থাপনের সিদ্ধান্ত

নিয়েছিলেন তিনি যাতে কাজটি আরও বড় আকারের প্রসারিত করা যায়। 30 বছর বয়সে বিদ্যারাবাদ আজ মাশরুম গার্ল হিসেবে বিখ্যাত হয়েছেন। উত্তরাখণ্ড সরকার আজ তাকে মাশরুম এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করেছেন। এছাড়াও প্রায় 7 হাজার কৃষক তার কাছ থেকে সরাসরি উপকার পাচ্ছেন। দিব্যা বার্ষিক আয় করছে পাঁচ কোটি টাকা,এ উদ্যোগের কারণে আজ লোকেরা স্থানীয়পর্যায়ে কর্মসংস্থান পাচ্ছে। দিব্যা রাবার

জানিয়েছেন মাশরুম এমন একটি ফসল যেখানে সর্ভদায়া থেকে লাভ করা যায় যেখানে অন্যান্য ফসলের খরচ বেশি লাভ কম।এর জন্য তিনি মাশরুমের চাষ শিখলেন এবং গবেষণা করলেন। উত্তরাখণ্ডের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন ধরনের মাশরুম তিনি বেছে নিয়েছেন যাক সেখানকার মৌসুমের জন্য উপযুক্ত। সব কিছু দেখার পরে তিনি দেরাদুনে সৌম্য ফোর্স প্রাইভেট লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন যার খরচ ছিল তিন

লাখ টাকা। দিব্যা রাওয়াত 2014 সালে তাঁর গবেষণা শুরু করেছিলেন।মাশরুম চাষের শুরুতে তিনি মাত্র চার হাজার কেজি মাশরুম বিক্রি করতেন তবে গত বছর তার উৎপাদন বেড়েছে 1.2 লক্ষের বেশি। 5 ডিব্বা মাসুম নুডুলস মাশরুম জুস মাশরুম বিস্কুটের মত আইটেম তৈরি করছে।কৃষি কাজের পাশাপাশি দিব্যা আজকার ডিসেম্বরে মাশরুম চাষ করছেন যার বাজারে প্রতি কেজি দাম 3 লাখ টাকারও বেশি।এছাড়াও

মহিলাদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগে তিনি মহিলাদের তার কাজে বেশি করে নিযুক্ত করছেন। তিনি বলেন যে আরও ভালোভাবে পাওয়ার জন্য শতাধিক অংশীদার মাশরুম চাষের সাথে যুক্ত, মাসুম চাষ প্রচার এর জন্য তারা ইনকিউবেশন কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে যার অধীনে নতুন কৃষক সৃষ্টি হচ্ছে এবং তারা নতুন প্রযুক্তি উন্নত বাজার বিপণন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারছে।এই কারণে 2016 সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব

মুখার্জি তাকে নারী শক্তি পুরস্কার দিয়েছিলেন। প্রথম মেয়ে লোকেরা তার কথা বিশ্বাস করেননি এবং তার সাথে তার কাজে যোগ দিতে প্রস্তুত হচ্ছিল না এমন পরিস্থিতিতে কৃষিতে মানুষদের নিয়োগ করা তার পক্ষে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। লোকেরা যখন দেখল তারা উপকার পাচ্ছেন তখন তারা নিশ্চিন্ত হয়ে যায় আজ লোকের উপকারিতা দেখে মাশরুম চাষ করার জন্য তার কাছ থেকে পরামর্শ নিতে আসে।কাজটিকে আরো

বড় করার পরিপ্রেক্ষিতে দ্য মাউন্টেন মাশরুম নামে একটি উদ্যোগ শুরু করতে চলেছেন। তাদের লক্ষ্য হলো প্রতিদিন 2 হাজার কেজি মাশরুম বাজারে বিক্রি করা। এটি সাথে সাথে তার টার্নওভার বার্ষিক কুড়ি কোটি ছাড়িয়ে যাবে। আশ্চর্য জ্ঞান দিবা রাওয়াতের এই চেতনা কে কুর্নিশ জানাই।বর্তমানে তিনি কেবল মাশরুমের ব্যবসায় করছেন না চাষের সাথে যুক্ত কৃষকদের লাভের পথে নিয়ে যাচ্ছেন।

Check Also

অষ্টম শ্রেণি ফেল তৃষিত মাত্র ২২ বছরেই কোটিপতি!

অষ্টম শ্রেণি ফেল তৃষিত মাত্র ২২ বছরেই কোটিপতি!

একজন মানুষ কত বছর বয়সে সফল হন কিংবা নিজের পায়ে দাঁড়ান? ২৫, ২৮ বা ৩০? ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *