Thursday , May 13 2021
Home / স্বাস্থ্য / বাসায় দীর্ঘদিন লেবু সতেজ রাখার কৌশল

বাসায় দীর্ঘদিন লেবু সতেজ রাখার কৌশল

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন ভিটামিন সি। এই ভিটামিন সি’র চাহিদা পূরণ করতে পারেন লেবু থেকে। তবে অনেক লেবু একসঙ্গে কিনে রাখলে শুকিয়ে যায় ও কালচে রঙ ধারণ করে। তাই লেবু সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজন সঠিক পদ্ধতি। আসুন জেনে নিই দীর্ঘদিন লেবু

সংরক্ষণের কয়েকটি পদ্ধতি– ১. রেফ্রিজারেটরে লেবু সংরক্ষণ করতে পারেন। রেফ্রিজারেটরে লেবু এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকে। ২. লেবু এক মাস সংরক্ষণ করতে চাইলে ‘জিপ-টপ’ ব্যাগে আবদ্ধ করে সংরক্ষণ করতে পারেন। এতে লেবু শুকিয়ে যায় না ও প্রায় এক মাসের সতেজ

থাকে। ৩. অর্ধেক কাটা লেবু সংরক্ষণ করার জন্য খাবার পেঁচানোর প্যাকেট বা আবদ্ধ কোনো কৌটায় সংরক্ষণ করুন। এই লেবু কয়েক দিন ভালো থাকে। ৪. একটি কাচের পাত্রে পানি দিয়ে তাতে সব লেবু রেফ্রিজারেটরে রাখলে কয়েক দিন ভালো থাকবে। ৫. লেবুর রস

রেফ্রিজারেটরে কয়েক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করতে পারেন। এই রস রান্না, বেইক করার কাজে ব্যবহার করতে পারেন। ৬. লেবুর রস বরফ করে রাখতে পারেন। প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করতে পারেন। ৭. লেবু টুকরা করে কেটে একটা বায়ুরোধী পাত্রে সংরক্ষণ করুন। এক সপ্তাহ পর্যন্ত ভালো থাকবে।

আসুন জেনে নিন লেবুর অসাধারণ কিছু উপকারিতা- ক্যান্সার প্রতিরোধ করে লেবুতে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সমারোহ যা শরীরকে বিভিন্ন ক্যান্সারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সাহায্য করে। নিয়মিত লেবু খাদ্যতালিকায় রেখে আমারা ক্যান্সারের হাত থেতে রক্ষা পেতে পারি।

1. পাকস্থলীকে সুস্থ রাখে যারা পেটের গোলযোগে ভুগছেন তাদের জন্য লেবু আদর্শ টনিক। পেটের গোলযোগের মধ্যে ডায়রিয়া, বদহজম, কোষ্টকাঠিন্য, আমাদের অস্বস্তিতে ফেলে দেয়, শুরুতে এক গ্লাস লেবু+লবন পানি আপনাকে এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি দেবে। লেবুর সঙ্গে এক চা চামচ মধু হলে আরো ভাল।
2. ফুসফুসের জন্য ভাল লেবু ফুসফুসের যত্ন নেয় এবং শরীর থেকে বিষাক্ত দ্রব্য বের করে দেয়, লেবু শরীরের চর্বি ও লিপিডের মাত্রা কম রাখে। ক্ষত সারায় লেবুর উচ্চ ভিটামিন যা শরীরের রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বৃদ্ধি করে যে কোন ভাইরাস জনিত ইনফেকশন যেমন ঠান্ডা, সর্দি, জ্বর দমনে লেবু খুব কার্যকারী, মুত্রনালীর ক্ষত সারাতেও লেবুর গুরুত্ব রয়েছে। হাইপার টেনশন কমায় যারা খাবারে যথেষ্ট পটাশিয়াম গ্রহণ করে না, তারা সহজেই নান রকম হৃদরোগে আক্রন্ত হয়ে পড়ে। লেবুর রসে যথেষ্ট পরিমান পটাশিয়ামরয়েছে যা হাইপার টেনশন কমাতে সাহয্য করে।

3. ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক পরিষ্কারক হিসাবে লেবুর জুড়ি নেই, এটি ত্বকের লাবণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে, মধুর সাথে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়। এটি ত্বকের সংকোচন সৃষ্টিকারী পদার্থকে নিয়ন্ত্রণ রাখে। চামড়ার অতিরিক্ত তেল অপসারণ করে। লেবুর রস প্রাকৃতিক অ্যানটি সেপটিক। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দূর করে। ব্রণ সারিয়ে তোলে, ত্বকের রং উজ্জ্বল করে। বয়সের বলিরেখা দূর করে।
4. মুখের দুর্গন্ধ দুর করে মাড়ির ব্যথা, দাঁতের সমস্যা, মুখের দুর্গন্ধ দূর করে। লেবুর পানি খাবার পর দাঁত ব্রাশ করার প্রয়োজন নেই। নখকে সুন্দর করে একটুকরা লেবু দিয়ে নখ পলিশ করলে নখ তার বিবর্ণতা থেকে উজ্জল রং ফিরে পায়। লেবুর পানিতে পা, হাত, ডুবিয়ে রাখলেও একটি উপকার হয়। ওজন কমাতে নিয়মিত ফ্রেশ লেবুর জুস+পানি খেলে ধীরে ধীরে ওজন কমাতে সাহয্য করবে।

5. পিএইচ মাত্রা নিয়ন্ত্রণ শুনলে অবাক হতে হয়, লেবু অম্লীয় হওয়া সত্ত্বেও শরীরে প্রয়োজনে ক্ষারধর্মী আচরণ করে। এটি শরীরে এসিডিটি তৈরি করে না। এটি শরীরের পিএইচ মাত্রাকে সঠিক অবস্থায় রাখে। লেবুর রস+লবণপানি পান করলে পিএইচ মাত্রা ঠিক থাকে।
6. গর্ভবতী নারীদের সুস্থতায় গর্ভবতী নারীদের জন্য খুবই ভালো লেবুজল। এটা শুধু গর্ভবতীর শরীরই ভালো রাখে না বরং গর্ভের শিশুর অনেক বেশি উপকার করে। লেবুর ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম শিশুর হাড়, মস্তিষ্ক ও দেহের কোষ গঠনে সহায়তা করে।

7. শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে যাদের হালকা শ্বাসকষ্ট আছে, তারা নিয়ম করে খাবারের আগে এক চামচ লেবুর রস খেতে পারেন। যারা মাইল্ড অ্যাজমায় ভুগছেন, লেবুর রস তাদের জন্য ওষুধের বিকল্প হিসেবেই কাজ করবে।
8.বয়সের ছাপ দূর করে বয়সের ছাপ পড়ে বলিরেখার মাধ্যমে। তাছাড়া অনেকের এমনিতেই বলিরেখা পড়তে পারে। লেবুর রস এই বলিরেখা দূর করতে দারুণ কার্যকর। রেখাগুলোতে লেবুর রস দিয়ে ১৫ মিনিট রাখুন ও ধুয়ে ফেলুন।

About Moni Sen

Check Also

শিশুর শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে তাৎক্ষণিক যা করবেন

শিশুর শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে তাৎক্ষণিক যা করবেন

শিশুর শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে তাৎক্ষণিক যা করবেন – ছোট শিশুদের সবকিছু মুখে দেওয়ার অভ্যাস। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x