Saturday , October 31 2020
Home / সংবাদ / বাবাকে কিডনি দিয়ে নতুন জীবন দিলেন ২০ বছর বয়সী সাহসী মেয়ে
image: google

বাবাকে কিডনি দিয়ে নতুন জীবন দিলেন ২০ বছর বয়সী সাহসী মেয়ে

কিছু দিন ধরে প্রায়ই পেটে ব্যথা অনুভব করেন, কোন কিছুু মুখে তুলে খেতে পারেন। যখন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো তখন জানা গেল তিনি লিভারের জঠিল রোগে আক্রান্ত সুু্স্থ্য করার একমাত্র উপায় হলে লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করা! তা না হলে মৃত্যু অবধারিত! শুনে যে পরিবারের সবার মাথায় চক্কর দিতে লাগল! এমন অবস্থায় কী করা যায়?

আর কে দান করবে লিভার? আর সহসও বা হবে কার? এমন সময় এগিয়ে এলেন তার একমাত্র মেয়ে রাখী দত্ত। রাখী দত্ত তার বাবার জন্য নিজের লিভারের কিছু অংশ দান করতে একদম মানসিক দিক হতে প্রস্তুত। অবশেষে সেই সাহসী মেয়ের কারণে এখনও পৃথিবীর আলো বাতাস নিতে পারছেন তার বাবা।

বাবা মেয়ের সর্ম্পক যেন একটু বেশিই আবেগময় হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রাখী দত্তের জন্যও ব্যতিক্রম হয়নি। বাবার লিভার জনিত সমস্যার কারণে প্রথমদিকে একটি ভেঙ্গে পড়েছিলেন রাখী দত্ত। তারপর ঠান্ডা মাথায় ভেবে চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শ করে রাখী দত্ত নিজের লিভারের অংশ দান করতে সম্মত হন। কেননা পরিবারে তার বাবার প্রয়োজন রয়েছে। তাই নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পিতার জীবন বাঁচাতে নিজের লিভারের প্রায় ৬৫ শতাংশ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন।

তারপর অপারেশন এর করার পালা এবার। হায়দরবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোলজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বাবা ও মেয়েকে। এরপর চেন্নাই হতে দুজন লিভার ট্রান্সপ্লান্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসে শুরু করেন এই জঠিল অপারেশনের কাজ। অস্ত্রপাচার সফলভাবে হওয়ার পর ক্রমেই সুস্থ্য হয়ে ওঠেন বাবা ও মেয়ে।

পেটে গভীর অপারেশনের ক্ষত চিহ্নসহ বাবা মেয়ের ছবি এখন সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে হাজার হাজার শেয়ার এবং নেটিজেনরা রাখী দত্ত ও তার বাবাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সত্যি ২০ বছরের মেয়ে রাখী দত্ত যে সাহসী কাজ করেছেন তার প্রশংসা না করে থাকা যায়।

বাবার প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা ও তার দুদান্ত সহসিকতার জন্যই রাখী দত্ত এমন সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছেন। স্বর্থের এই পৃথিবীতে কজনইবা আছে এমন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্যের প্রাণ বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।

Check Also

সাইকেলে করে মায়ের সৎকার করলেন কিশোর ছেলে একাই!

সাইকেলে করে মায়ের সৎকার করলেন কিশোর ছেলে একাই! – নীচু জাত বলে প্রতিবেশীরা কেউই সাহায্যের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
error: Content is protected !!