Monday , April 19 2021
Home / সংবাদ / ফুটপাতেই ১০ বছর ধরে ভিক্ষুক জীবন কাটছে এই চৌকস পুলিশ কর্মকর্তার!

ফুটপাতেই ১০ বছর ধরে ভিক্ষুক জীবন কাটছে এই চৌকস পুলিশ কর্মকর্তার!

ফুটপাতেই ১০ বছর ধরে ভিক্ষুক জীবন কাটছে এই চৌকস পুলিশ কর্মকর্তার! – মনীষ মিশ্র, ছিলেন ভারতের মধ্যপ্রদেশ পুলিশের দক্ষ শু’টার। গত এক দশক ধরে ভিক্ষুকের মতো ঘুরছেন পথে পথে। ১০ বছর ধরে ঠিকানা তার ফুটপাত। কেউ করুণা করলে খাবার জুটেছে, না হলে

অভুক্ত সারা দিন। পরিবার-পরিজন সবই আছে তার। কিন্তু সব থেকেও কিছুই যেন তার নেই। জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্য হা’রানোর পরই মনীষের জীবনে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায়। একসময় পুলিশের চাকরিটা চলে যায় তার। আর ‘পাগল’ ছেলে কোথায় কী করে বসে, তাই

পরিবারও দূরে ঠেলে দেয়। এভাবেই চলে যাচ্ছিল তার ভবঘুরে জীবন। পুরনো ব্যাচমেটদের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয় তার। মনীষকে দেখে তারা চিনতে পারেননি। কিন্তু মনীষের চিনতে ভুল হয়নি। এরপর যা ঘটে, তা কম নাটকীয় নয়। মধ্যপ্রদেশ উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাস্তায়

বেরিয়েছিল বিজয় মিছিল। সেই মিছিল ঘিরে অপ্রীতিকর কিছু যাতে না ঘটে তা দেখার দায়িত্বে ছিলেন ডিএসপি রত্নেশ তোমর ও বিজয় ভাদোরিয়া। ফুটপাতে হঠাৎ তাদের নজর যায় এক ভিক্ষুকের দিকে। কী মনে করে পরনের ভালো জ্যাকেটটি পুলিশ অফিসার বিজয় তার হাতে

তুলে দেন। রত্নেশ সিং তোমর দেন একজোড়া নতুন জুতা। ফিরেই আসছিলেন তারা। কিন্তু ওই ভিক্ষুক ভাদোরিয়ার নাম ধরে ডাকায় বিস্মিত হন অফিসার। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে আবারও এগিয়ে যান ওই ভিক্ষুকের দিকে। জিজ্ঞাসায় জানতে পারেন তিনি মনীষ মিশ্র। এরপর আর তাকে চিনে

নিতে অসুবিধা হয়নি দুই পুলিশ অফিসারের।ভাদোরিয়া বলেন, মনীষ আমাদের ব্যাচের সেরা ১০ শুটারদের একজন ছিল। সে একজন ভালো এথলেটও। সে বিভিন্ন থানায় পুলিশ ইনচার্জ হিসেবে কাজ করেছে। ১৯৯৯ সালের ব্যাচমেট তারা! মনীষকে তারা সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান।

কিন্তু মনীষের তীব্র আপত্তিতে শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে যাওয়া হয় এক আশ্রমে। সেখানেই তার মানসিক চি’কিৎসারও ব্যবস্থা হয়েছে। জানা গেছে, মনীষের বাবা ও চাচা দুজনই অ্যাডিশনাল এসপি পদে থেকে অবসর নিয়েছেন।মনীষের ভাই থানার অফিসার ইনচার্জ। তার বোন কাজ করেন দূতাবাসে। ডাটিয়া জেলায় শেষ পোস্টিং ছিল সাব-ইনস্পেক্টর মনীষের। তারপরই মা’নসিক অ’সুস্থতা। এই ১০ বছর ভোপালের একাধিক

আশ্রম ও ভবঘুরে কেন্দ্রে তাকে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবারই তিনি পালিয়ে যান। তার পরিবারেরও দাবি, মনীষকে তারা ঘরে ধরে রাখার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন।

About Moni Sen

Check Also

দেশের প্রথম মহিলা অটোচালক! আজ তিনি শত শত নারীর অনুপ্রেরণা!

দেশের প্রথম মহিলা অটোচালক! আজ তিনি শত শত নারীর অনুপ্রেরণা!

দেশের প্রথম মহিলা অটোচালক! আজ তিনি শত শত নারীর অনুপ্রেরণা – ভারত কেবল ধর্মীয় বৈচিত্রের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x