Sunday , April 18 2021
Home / লাইফ-স্টাইল / দৈনন্দিন জীবন চলার পথে সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবেন যেভাবে

দৈনন্দিন জীবন চলার পথে সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবেন যেভাবে

দৈনন্দিন জীবন চলার পথে সকলের প্রিয়পাত্র হয়ে উঠবেন যেভাবে – দৈনন্দিন জীবন চলার পথে কেউ হয়ে উঠে আশপাশের মানুষের মধ্যমণি আবার কেউবা হয়ে প’ড়েন অপ্রিয়। আর দুটোর পেছনের মূল কারণ হলো আচরণ-ব্যবহার। এই দুইয়ের ব্যবহার যে যেমন করে ক’রতে পারে

তার উপরই নির্ভর করে কে কতটা পাবে অন্যের কাছ থেকে। প্রতিদিনই জীবনে চলতে মু’খোমুখি হতে হয় নেতিবাচক কিছু দিকের। কিন্তু এগুলো বর্জন করাটা অত্যন্ত জরুরী। তাহলেই সবার প্রিয় হয়ে ওঠা সম্ভব। আর এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের রয়েছে কিছু প’রামর্শ।

তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক সে বিষয়গুলো –

১. ইচ্ছাশ’ক্তি বাড়ান: সবার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠতে গেলে থাকতে হবে ইচ্ছাশ’ক্তি। এই ইচ্ছাশ’ক্তি আপনার জীবনযাত্রার মানে উৎকর্ষ বৃ’দ্ধি ক’রতে সহায়তা করবে। ইতিবাচকতা একটা আবরণের মতো। যখন আপনি মানুষের মনে বিশ্বা’স স্থাপন ক’রতে পারবেন, মানুষ আপনাকে বিশ্বা’স ক’রতে শুরু করবে।

২. বাস্তববাদী হোন: একেবারে সাধু ব্য’ক্তি হওয়ার চেষ্টা না করাই ভালো। আপনি ইতিবাচক ব্য’ক্তি হয়ে উঠবেন, তার মানে এই নয় যে আপনার কোনো নেতিবাচক আবেগ থাকতে পারে না কিংবা কখনোই নেতিবাচক প’রিস্থিতির শি’কার আপনি হবেন না। কোনো কাজে ব্য’র্থ হলে হ’তাশাগ্রস্ত হবেন না কিংবা বিপথের দিকে ধাবিত হবেন না।

৩. পর্যবেক্ষণ ও অভিজ্ঞতা: একজন মনোযোগী পর্যবেক্ষক হোন। আপনার চারপাশে খেয়াল রাখু’ন। কিভাবে আপনি আরো বেশি ইতিবাচক উপাদান আয়ত্ত ক’রতে পারবেন তার জন্য দৈনন্দিন জীবনের ক’র্মকাণ্ডে মনোযোগী হোন। এটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গিকে আরো বেশি ইতিবাচক করে তুলবে।

৪. মা’র্জিত বক্তব্য: ভাষায় মা’র্জিত ও ইতিবাচক শব্দ ব্যবহার ক’রতে হবে। সহক’র্মী দের স’ঙ্গে মিশতে হবে কাছাকাছি থেকে এবং ব’ন্ধুত্বপূর্ণভাবে। শা’রীরিক উপস্থাপনা সব সময় পরিশীলিত থাকবে। আপনার আশপাশে আনন্দময় কিছু ঘটলে চেহারায় আনন্দ ও সুখী সুখী ভাব নিয়ে আসুন। হাসির কিছু ঘটলে মুখে হাসি নিয়ে আসুন।

৫. ব’ন্ধুত্বে সত’র্কতা: একটিমাত্র পথেই যদি আপনি সবার আস্থাভাজন হয়ে উঠতে চান সে ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভ’য় ঘ’টনাই ঘটতে পারে। আপনি যদি ব’ন্ধুমহলে বেশির ভাগ সময়ই রূঢ় আচরণ করেন তাহলে মনে রাখবেন, আপনাকে একই ধ’রনের আচরণের মু’খোমুখি হতে হবে। আপনার হৃদয়ে ইতিবাচকতা যদি গ’ভীরভাবে থাকে তাহলে আপনার ব’ন্ধুমহল হবে ইতিবাচক, ক’র্মোদ্যোগী, হাসিখুশি ও প্রাঞ্জল।

৬. আলসেমি বাদ দিন: অলস বা আয়েশি হয়ে বসে থাকবেন না। অন্যদের স’ঙ্গে থাকুন আর একা থাকুন, ইতিবাচক কাজে’র মধ্যে থাকবেন। জোক বলুন, মজার ঘ’টনা শেয়ার করুন, খেলাধুলায় অংশ নিন। কাজ শেষে হাঁটতে বের হোন। একটা স্বা’স্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

৭. সব কিছু সহজভাবে গ্রহণ: প্রাত্যহিক জীবন থেকে আপনি আঘা’ত পেতে পারেন। এটা মেনে নিতে আপনাকে তৈরি থাকতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, আপনাকে প্রতিদিন ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালাতে অথবা পার্ক ক’রতে হতে পারে। যখন আপনি এ ব্যাপারগুলোতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন তখন আর কোনো স’মস্যাই হবে না।

৮. যোগ ব্যায়াম চর্চা : যোগ ব্যায়ামের শিক্ষক ও পুষ্টিবিদ অভিলাষ কেইল বলেন, ‘প্রতিদিন প্রার্থনা করুন, এটা আপনার ভেতরকে প্র’কাশ ক’রতে সহায়তা করবে, আত্মনিয়ন্ত্রণ ক’রতে শেখাবে।’ এটা যে শুধু নীরবেই সুখ বিচ্ছুরিত করবে তা নয়, খুব অল্প সময়েই আপনার ইন্দ্রিয়কে সচে’তন করে তুলবে।

৯. ডায়েরি লিখু’ন: একটা সময় নির্ধারণ করে দিনের সব কাজকে মনে করুন, এখান থেকে ভালো কাজগুলো আ’লাদা করে ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করুন। এগুলো খুব সামান্য ব্যাপারও হতে পারে। যেমন ক’র্মক্ষেত্রে যাওয়ার উদ্দেশ্যে আপনার বাসে আরোহণ করা, আপনার মায়ের হাতের তৈরি সুস্বাদু নাশতা, সময়মতো বিল প’রিশোধ করা ইত্যাদি। এতে চোখের সামনে নিজে’র করা ছোট একটি ইতিবাচক কাজ দে’খতে পারবেন। যখন আপনি আপনার লেখা ডায়েরিটি পড়বেন তখন নিজেই নিজেকে দৃঢ়ভাবে সুখী ঘো’ষণা করবেন।

১০. ধন্যবাদ দিন: আশপাশের সবাইকে ধন্যবাদ দিন। বাবা-মাকে ধন্যবাদ দিন। ব’ন্ধুদের ধন্যবাদ দিন। আপনি যে পরিশ্রম করছেন সে জন্য নিজেকেও ধন্যবাদ দিন। বারবার ‘থ্যাংক ইউ’ বললে আপনি হয়ে উঠবেন বিনয়ী। বিনয়ী হলে আর নিরাশ হবেন না।

About Moni Sen

Check Also

সন্তানকে যে ৮টি কথা কখনোই বলা উচিৎ নয়!

সন্তানকে যে ৮টি কথা কখনোই বলা উচিৎ নয়!

সন্তানকে যে ৮টি কথা কখনোই বলা উচিৎ নয়! – আমা’র নিজেদের সন্তানের ভালোর জন্য বকা-ঝকা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x