Thursday , May 13 2021
Home / স্বাস্থ্য / জে’নে নিন মহিলাদের র’ক্তস্বল্পতার কারন ও র’ক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে সঠিক পরামর্শ

জে’নে নিন মহিলাদের র’ক্তস্বল্পতার কারন ও র’ক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে সঠিক পরামর্শ

জে’নে নিন মহিলাদের র’ক্তস্বল্পতার কারন ও র’ক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করতে সঠিক পরামর্শ – রক্তস্বল্পতা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিষয়। রক্তস্বল্পতা অন্য রোগের সঙ্গে একটি উপসর্গ হতে পারে। কখনোবা নিজেই একটি রোগ হতে পারে। রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কোনো কারণে স্বাভাবিকের

চেয়ে নিচে নেমে গেলে তাকে বলা হয় অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা। হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন সরবরাহ করা। হিমোগ্লোবিন রক্তের লোহিত কণিকায় থাকে। এ বিষয়ে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন মৃধা বলেন, ‘আমাদের দেশের শিশুরা সাধারণত আয়রন ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতায় বেশি ভোগে। শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য যে অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, তা সাধারণত হিমোগ্লোবিনের মাধ্যমে সঞ্চালিত হয়। তাই শিশুর দৈহিক ও মানসিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে রক্তস্বল্পতা একটি বড় প্রভাব

ফেলে। নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা দিলেও এটি সব বয়সী মানুষেরই হতে পারে।’নারীদের ১২ থেকে ১৬ গ্রাম বা ডিএল। শিশুর বয়স ও লিঙ্গ অনুযায়ী স্বাভাবিক মানের নিচে থাকে, তবে সে রক্তস্বল্পতায় ভুগছে বলা হয়। এক বছর বয়স থেকে বয়ঃসন্ধিকাল পর্যন্ত সাধারণভাবে শিশুর হিমোগ্লোবিন ১১ গ্রাম বা ডেসিলিটারের নিচে থাকা রক্তস্বল্পতার নির্দেশ করে। কেন হয় রক্তস্বল্পতা: রক্তস্বল্পতা রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। নানা কারণে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। রক্তের হিমোগ্লোবিন তৈরির অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হলো আয়রন। কোনো কারণে শরীরে আয়রনের

উপস্থিতি কমে গেলে রক্তস্বল্পতা হয়। একে বলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা। এ ছাড়া ভিটামিন বি ও ফলিক অ্যাসিডের অভাব, দীর্ঘমেয়াদি বিশেষ কিছু রোগ যেমন: দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যা, যক্ষ্মা, রক্তের ক্যানসার, থ্যালাসেমিয়া, থাইরয়েড হরমোনের সমস্যা, রক্ত উৎপাদনকারীর মজ্জার সমস্যা, রক্তের লোহিত কণিকা নিজে নিজে ভেঙে যাওয়া, রক্তক্ষরণ ইত্যাদি কারণে রক্তস্বল্পতা হয়ে থাকে। নানা রকম রক্তস্বল্পতার ভেতর আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার হারই সবচেয়ে বেশি। নারীদের মধ্যে এর হার পুরুষের তুলনায় বেশি। বাংলাদেশে নারীদের

গর্ভাবস্থায় আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতার পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। এই রক্তস্বল্পতার কারণে বেড়ে যায় মাতৃমৃত্যুর হার। শিশুদের মধ্যেও এর হার যথেষ্ট বেশি। আয়রনের ঘাটতি কীভাবে হয়: আয়রনের ঘাটতি হওয়ার প্রধান কারণ অপুষ্টি। খাদ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন না থাকলে আয়রনের অভাব দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় এবং শিশুদের বেড়ে ওঠার সময় বাড়তি আয়রনের প্রয়োজন। কিন্তু দেখা যায় সেই অনুযায়ী গর্ভবতী মায়েদের পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো হয় না। কিছু পরিবার বা এলাকায় গর্ভবতী মায়েদের কম খেতে দেওয়া হয়। যেসব নারী

অতিরিক্ত ঋতুস্রাবজনিত সমস্যায় ভোগেন, তাঁদেরও আয়রনজনিত রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। পেপটিক আলসার, কৃমি, পাইলস, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার ওষুধ সেবন ইত্যাদি কারণেও দীর্ঘমেয়াদি রক্তক্ষরণ হলে আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা হতে পারে। যারা বেশি বেশি বা অপ্রয়োজনীয় গ্যাসট্রিকের ওষুধ খায় অর্থাৎ গ্যাসট্রিকের সমস্যা হলেও খায়, না হলেও খায়, তাদের রক্তস্বল্পতা দেখা দিতে পারে। কারণ, আয়রন শোষণ করতে গেলে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড লাগবে কিন্তু গ্যাসট্রিকের ওষুধগুলো কারণে এই অ্যাসিড কমে গেলে আয়রন কিন্তু পর্যাপ্ত শোষণ হবে না। উপসর্গ: ১. শরীর ও চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, ২. বুক ধড়ফড় করা, ৩. দুর্বলতা ও সামান্য পরিশ্রমে হাঁপিয়ে যাওয়া এবং ব্যায়ামের

পর শ্বাসকষ্ট হওয়া, ৪. কানে ঝিঁঝিঁ শব্দ শোনা, ৫. খাবারে অরুচি ও ক্ষুধামান্দ্য, ৬. নখ ভঙ্গুর হওয়া বা নখের আকৃতি চামচের মতো হওয়া, ৭. কাজকর্ম-পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়া। চিকিৎসা: যেকোনো ধরনের রক্তস্বল্পতায় চিকিৎসা দেওয়া হয় রক্তস্বল্পতার পেছনের কারণটিকে বিবেচনা করে। আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতায় কী কারণে আয়রনের ঘাটতি হলো, তা আগে নিশ্চিত করতে হবে। অপুষ্টিজনিত কারণে হলে আয়রন দেওয়াটাই মূল চিকিৎসা। সঙ্গে আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের পরামর্শ দেওয়া হয়। কচুশাক, ডাঁটাশাক, পালংশাক, শিম ও শিমের বিচি, কাঁচা কলা, সামুদ্রিক মাছ, কলিজা, গিলা, গরু-খাসির মাংসে প্রচুর আয়রন থাকে। আয়রন সাপ্লিমেন্ট দুই ভাবে দেওয়া হয়। মুখে

খাওয়ার জন্য ট্যাবলেট ও ক্যাপসুল আকারে, শিরায় ইনজেকশন হিসেবে। কোন উপায়ে রোগী এটা নেবে, তা রোগীর অবস্থা বুঝে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন। পেপটিক আলসার, অতিরিক্ত ঋতুস্রাব, পাইলস থাকলে তার চিকিৎসা করতে হবে। নিয়মিত কৃমির ওষুধ খেতে হবে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য একটা বড় হুমকি হলো এই আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা। অথচ এর সমাধান খুব সহজ। শুধু দরকার একটু সচেতনতা। রক্তশূন্যতার যে লক্ষণগুলো অবহেলা করতে নেই: রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়ায় শরীরে রক্ত কমে যায় না, বরং রক্তের একটি উপাদান হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় কমে যায়। এসময় আপনার রক্তে লোহিত রক্ত কণিকা কমে যায়। এতে করে

আপনার শরীরের অক্সিজেন প্রবাহকে বাধা দেয়। তবে হঠাৎ করেই রক্তশূন্যতা দেখা দেয় না। আজ রিডার্স ডাইজেস্ট অবলম্বনে জেনে নেব রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হওয়ার পূর্বলক্ষণগুলো। শ্বাস নিতে সমস্যা হলে এবং মাথা ঘোরালে: রক্তশূন্যতায় আক্রান্তের অন্যতম একটি লক্ষণ হলো আপনার ব্রেইনে পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন যেতে না পারার কারণে আপনার হঠাৎ করেই মাথা ঘোরায় কিংবা শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভোগা: ক্রমাগত অতিরিক্ত ক্লান্তিতে ভোগাও রক্তশূন্যতার লক্ষণ। তবে কেউ কেউ কাজ করার সময় ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন, আবার কেউ কেউ এমনিতেই হঠাৎ করে ক্লান্ত হয়ে উঠতে পারেন। ত্বক হয়ে যেতে পারে বিবর্ণ: রক্ত সরবরাহে বাধা প্রাপ্ত হওয়ার কারণে আপনার

শরীরের সবচেয়ে বড় অঙ্গ আপনার ত্বকেও ছাপ রাখে রক্তশূন্যতা। রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হলে আপনার ত্বক হয়ে যেতে পারে বিবর্ণ ও হলদেটে। বুকে ব্যথা অনুভব: রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হলে আপনার হার্ট স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি স্পন্দিত হয়। এতে করে আপনি হালকা থেকে মাঝারি বুক ব্যথা অনুভব করতে পারেন। বরফ খাওয়ার নেশা হলে: হঠাৎ করেই আপনার আইস কিউব অর্থাৎ বরফের টুকরা খাওয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগলে ধরে নিতে পারেন আপনার রক্তস্বল্পতা হয়েছে। এছাড়াও বরফের পাশাপাশি বেকিং সোডা, কাদামাটি এমনকি পেনসিল খাওয়ারও অভ্যাস তৈরি হতে পারে। এসকল অদ্ভুত অভ্যাস হলে ভাববেন না যে মানসিক সমস্যা হয়েছে। রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত হয়েছেন আপনি। হাত ও পা ঠাণ্ডা হয়ে থাকা: তীব্র গরমেও হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে আছে? হ্যাঁ, আপনি রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন। অ্যানিমিয়ার ফলে যে আয়রন ডেফিসিয়েন্সি সমস্যায় পড়েছেন,

এটা থেকে আপনার হাত পা ঠাণ্ডা হয়ে থাকে। অস্বাভাবিক পরিমাণে মাথাব্যথা: সাধারণত মানসিক চাপ, নিদ্রা স্বল্পতা, দুর্বলতা থেকে মানুষের মাথাব্যথা হয়ে থাকে। কিন্তু এসব কোনও কারণ ছাড়াই যদি আপনি অস্বাভাবিক পরিমাণে মাথাব্যথায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে সেটা রক্তস্বল্পতার কারণ হতে পারে। অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হলে: অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন কিংবা বুক ধকধক করলে ও হতে পারে অ্যানিমিয়ার লক্ষণ। তাই উপরোক্ত লক্ষণগুলো দেখা দিলেই কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। অথবা রক্তস্বল্পতা প্রাথমিক অবস্থায় থাকলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব। কোন সময় বেশি হয়: আমাদের বাংলাদেশে সবারই একটি বদ অভ্যাস, আমরা বেশি গ্যাসট্রিকের ওষুধ খাই। গ্যাসট্রিকের সমস্যা হলেও খাই, না হলেও খাই। আয়রন শোষণ করতে গেলে অ্যাসিড লাগবেই। আমি যখন এই গ্যাসট্রিকের ওষুধগুলো খাচ্ছি, তখন এই অ্যাসিড কমে যাচ্ছে। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাচ্ছে। আয়রন কিন্তু শোষণ হচ্ছে না, ফলে রক্তশূন্যতা দেখা দিচ্ছে।

অর্থাৎ যে রোগীরা নিয়মিত গ্যাসট্রিকের ওষুধ খাচ্ছে, তাদের এগুলো দেখা দেবে। পাশাপাশি আমরা কথা কথায় মুড়ি-মুড়কির মতো অ্যান্টাসিড খেয়ে ফেলি। এটিও আয়রন শোষণে বাধা দেয়। আমরা একটু কোমরে ব্যথা, পিঠে ব্যথা, কথায় কথায় ব্যথার ওষুধ খেতে থাকি। ব্যথার ওষুধ খেলে পাকস্থলীর ভেতর ঘা তৈরি হয়। সেখান থেকে রক্ত যায়। এটি ক্ষুদ্রান্ত্রেও কিছুটা সমস্যা করে। ডিওডেনামের প্রথম ভাগে গিয়ে আয়রন শোষণ হয়। আরেকটি পুষ্টির মধ্যে বলি ভিটামিন বি১২। ভিটামিন বি১২ থাকে সাধারণত লাল মাংস, মাছ, দুধ অথবা ডিমের কুসুমের মধ্যে। সাধারণত আমরা কমবেশি সবাই খাই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে ফলিকের অভাব। এটি একটি প্রচলিত সমস্যা। অনেক বাচ্চার মধ্যে দেখা যায়, তারা ফাস্টফুড খাচ্ছে, পোলাও খাচ্ছে, মাংস খাচ্ছে। তারা কিন্তু শাকসবজি খেতে চায় না। সবুজ শাকসবজি না খেলে কিন্তু আপনি ফলিক

এসিড পাচ্ছেন না। ভিটামিন বি১২ লিভারের তিন বছর পর্যন্ত সংগৃহীত থাকতে পারে। তবে ফলিক এসিড থাকে না। তাই ফলিক অ্যাসিড না খেলে সমস্যা দেখা দেবে। তাহলে এ ক্ষেত্রে আমার ইতিহাস দরকার। এখন আমরা করব কি, পরীক্ষা করে দেখব। ভিটামিন বি১২-এর অভাব হলে দেখা যায় নার্ভের ওপর তার কিছুটা প্রভাব পড়ে। হাঁটাতে একটু দুর্বলতা দেখা দেয়। চোখে কিছু সমস্যা হয়, স্মৃতিতে সমস্যা হয়, যাকে ডিমেনশিয়া বলা হয়। কিছু নিউরোলজিক্যাল ক্ষতি হয়ে যায়। এগুলো অনেক সময় স্থায়ী হয়ে যায়। তার মানে এই জিনিসগুলো আমার খেয়াল করতে হবে। গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে যা করবেন: গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। রক্তস্বল্পতা হয় যখন রক্তে যথেষ্ট পরিমাণ লোহিত বা লাল রক্ত কণিকা থাকে না ফলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে অক্সিজেন পরিবহন কম হয়। ফকে শরীরে দুর্বলতা বাড়ে ও রোগ প্রতিরোধ

ক্ষমতা কমে যায়। আর গর্ভাবস্থায় মাকে বাড়ন্ত ভ্রূনের জন্যও রক্তের যোগান দিতে হয়। এ সময়ে যদি মা সঠিক পরিমাণে আয়রন জাতীয় খাবার গ্রহণ না করেন তবে মায়ের শরীরে পর্যাপ্ত রক্ত উৎপন্ন হবে না এবং মা ও শিশু উভয়েরই রক্তস্বল্পতা হতে পারে। গর্ভাবস্থায় সামান্য আয়রনের অভাব হওয়া অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সচেতন না হলে এবং আয়রন ও ভিটামিনের বেশি অভাব হলে তা অবশ্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় কয়েক ধরনের অ্যানিমিয়া বা রক্তস্বল্পতা হতে পারে। আয়রনের অভাবের ফলে রক্তস্বল্পতা: যখন পর্যাপ্ত হিমোগ্লোবিন উৎপন্নের জন্য শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন থাকে না তখন এটি দেখা দেয়। এর ফলে লোহিত রক্তকণিকা উৎপন্ন হয় না বলে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ও টিস্যুতে অক্সিজেন পরিবহন কম হয়। ফলিক এসিডের অভাবের ফলে রক্তস্বল্পতা: ফলিক এসিড বা ফোলেট হল এক ধরণের ভিটামিন বি যা সবুজ শাক-সব্জিতে প্রাকৃতিকভাবেই প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। ভ্রুণের নতুন কোষ ও লোহিত রক্ত কণিকা সৃষ্টির জন্য ফোলেট অপরিহার্য।

গর্ভাবস্থায় মায়ের নিজের সশরীরের চচাহিদা পূরণের পরও ভ্রুণের জন্য অতিরিক্ত ফোলেট প্রয়োজন। কিন্তু অনেকসময় তাদের প্রতিদিনের খাবার থেকে তারা পর্যাপ্ত ফোলেট পান না। তখন ফোলেটের অভাবে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। ফোলেটের অভাবে শিশুর নানা রকম জন্মগত ত্রুটি যেমন মস্তিষ্কের গঠনে সমস্যা, জন্মের সময় কম ওজন ইত্যাদি হতে পারে। ভিটামিন বি-১২ এর অভাবে রক্তস্বল্পতা: লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদনের জন্য ভিটমিন বি-১২ অপরিহার্য। দুধ, ডিম, মাংসে এটি প্রচুর পরিমাণে বিদ্যমান থাকে। তারপরও এর অভাব হলে রক্তস্বল্পতা হতে পারে। কী কী কারণে গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতাহতে পারে: ১. যমজ দুই বা ততোধিক সন্তান গর্ভে ধারণ করলে, ২. একবার সন্তান জন্ম নেবার পর খুব দ্রুত আবার গর্ভধারণ করলে, ৩. অনেক বেশি বমি হলে, ৪. খুব কম বয়সে গর্ভধারণ করলে, ৫. আয়রনযুক্ত খাবার না খেলে, ৬. গর্ভধারণ করার আগ থেকেই রক্তস্বল্পতা থাকলে। গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা হওয়ার সাধারণ লক্ষণগুলো: ১. বিবর্ণ চামড়া, ঠোঁট ও নখ,

২. শরীর অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পরা, ৩. ঝিমানী আসা, ৪. ঘন ঘন শ্বাস ফেলা, ৫. হার্টবিট দ্রুত চলা। গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা হলে কী কী সমস্যা হতে পারে: প্রাথমিক অবস্থায় রক্তস্বল্পতা ধরা পরলে ও পরে পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিলে তেমন কোন সমস্যা হয়না। কিন্তু পর্যাপ্ত চিকিৎসা না নিলে পরবর্তীতে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে। ১. ৩৮ সপ্তাহের আগেই শিশুর জন্ম হওয়া, ২. জন্মের সময় শিশুর কম ওজন, ৩. শিশুরও রক্তস্বল্পতায়, ৪. শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি সঠিকভাবে না হওয়া, ৫. মস্তিষ্কের বিকাশ সঠিকভাবে না হওয়া। রক্তস্বল্পতা হলে তা নির্ণয় করার উপায় কী: গর্ভাবস্থার প্রথম দিকে ডাক্তারের কাছে চেক-আপের জন্য গেলে তিনি রক্তপরীক্ষা করে সবকিছু ঠিক আছে কি না যাচাই করে থাকেন। রক্তস্বল্পতা আছে কিনা জানার জন্য সাধারণত নিম্নোক্ত জিনিসগুলো রক্তপরীক্ষার সময় যাচাই করা হয়। হিমোগ্লোবিন টেস্ট: এই পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। হিমাওগ্লোবিন হল লোহিত রক্ত কণিকার আয়রন সমৃদ্ধ প্রোটিন অংশ যা অক্সিজেন পরিবহণ করে। হেমাটোক্রিট টেস্ট: এটি রক্তে কত শতাংশ লোহিত রক্তকণিকা আছে তা নির্ণয় করে। এই দুটো টেস্টের কোনটিতে

যদি ফলাফক স্বাভাবিকের চেয়ে কম হয় তবে ধিরে নেয়া হয় রোগীর রক্তস্বল্পতা রয়েছে। গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতার চিকিৎসা কী: গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে আয়রন সাপ্লিমেন্ট ও ফলিক এসিড সাপ্লিমেন্ট খেতে বলা হয়। এছাড়া প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় বেশি বেশি আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে বলা হয়। এছাড়া যাদের ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি থাকে তাদের ভিটামিন বি-১২ সাপ্লিমেন্ট দেয়া হয়। কিভাবে গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ করবেন: গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে বেশি আয়রন প্রয়োজন এটি সাধারণ কথা। তাই সন্তান ধারণের সংবাদ পাওয়া মাত্রই মাকে একটি আদর্শ খাবার রুটিন মেনে চলতে হবে এবং তার প্রাত্যহিক খাবার তালিকায় অবশ্যই আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। আয়রন সমৃদ্ধ কিছু খাবারের তালিকা নিচে দেয়া হল। কলিজা: রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর একটি খাবার কলিজা। এটি আয়রনের ঘাটতি দূর করে। খাসি বা গরুর কলিজায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। এটি আদতে রক্তস্বল্পতা দূর করতে ভূমিকা রাখে। ডিম: ডিমে

রয়েছে প্রচুর প্রোটিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। প্রতিদিন ডিম খেলে পুষ্টিহীনতার কারণে সৃষ্ট রক্তস্বল্পতা দূর হয়। শরীরের জন্য ডিমের ক্ষতিকর প্রভাবও খুব কম হওয়ায় রক্তস্বল্পতা দূর করার অত্যন্ত কার্যকর উপাদান ডিম। কচু ও সবুজ শাকসবজি: রক্তস্বল্পতা দূর করতে পারে কচুর শাক ও সবুজ শাকসবজি। দেহে ফলিক অ্যাসিড এবং আয়রনের ঘাটতি দূর করে রক্তস্বল্পতা থেকে পরিত্রাণ দেয় সবুজ শাকসবজি। বিশেষ করে কচুশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি ইত্যাদি খুবই কার্যকর। মাছ: মাছ অত্যন্ত ভালো আয়রনের উৎস। সামুদ্রিক মাছ ছাড়াও শিং, ইলিশ, ভেটকি, টেংরা ইত্যাদি মাছে রয়েছে প্রচুর আয়রন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় মাছ রাখলে তা রক্তস্বল্পতা থেকে দূরে রাখবে। ডাল: ডাল রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ডাল রাখা যেতে পারে। মসুর, মুগ কিংবা মাস কলাইয়ের ডাল হলে ভালো। আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের সাথে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেলে তা আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি জাতীয় খাবারের

মধ্যে রয়েছে ফলমূল, ফলের জুস, লেব, টমেটো, কাচা মরিচ ইত্যাদি। এছাড়া শাক-সব্জি, ফলমূল, মটরশুঁটি, সিমের বিচি, রুটি ইত্যাদিতে প্রচুর ফলিক এসিড তথা ফোলেট বিদ্যমান। গর্ভধারণের সংবাদ পাওয়া মাত্রই ডাক্তারের কাছে গিয়ে মায়ের রক্ত পরীক্ষা করানো উচিৎ। এরপর ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খাবার ও সাপ্লিমেন্ট সময়মত ও নিয়মমত গ্রহণ করলে একটি সুস্থ গর্ভাবস্থা ও সুস্থ শিশু জন্মদানের আশা করা যায়। রক্তে আয়রনের পরিমান ঠিক থাকলেও এসময়ে আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা ট্যাবলেট খেতে হবে। অনেকে এটি খাওয়া প্রয়োজন মনে করেন না। কিন্তু আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খেলেও পাশাপাশি ট্যাবলেট খাওয়া প্রয়োজন কারণ এসময় প্রচুর আয়রন প্রয়োজন হয় ফলে কেবল খাবার যথেষ্ট নয়।

About Moni Sen

Check Also

CSIR জানাল, কোন ব্লাড গ্রুপের মানুষের করোনা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

CSIR জানাল, কোন ব্লাড গ্রুপের মানুষের করোনা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি- ভারতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনা। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x