Sunday , April 18 2021
Home / সংবাদ / জাল ডিগ্রি আর পাসপোর্ট, তবু ২৫ হাজার কোটি টাকার মালিক ‘পতঞ্জলি’র CEO

জাল ডিগ্রি আর পাসপোর্ট, তবু ২৫ হাজার কোটি টাকার মালিক ‘পতঞ্জলি’র CEO

জাল ডিগ্রি আর পাসপোর্ট, তবু ২৫ হাজার কোটি টাকার মালিক ‘পতঞ্জলি’র CEO – বাবা রামদেব এবং তাঁর নামে প্রচারিত ব্র্যান্ড ‘পতঞ্জলি’ এখন দেশবাসীর কাছে পরিচিত নাম। শুধু তাই নয়, কিছু বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মধ্য প্রাচ্য, আমেরিকা এবং কানাডার মতো

দেশেও নিজেদের বাণিজ্যকে বিস্তারিত করেছে পতঞ্জলি। ২০১৫-১৬ সালে পতঞ্জলি ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অঙ্কের মুনাফা ঘরে তুলেছে। মূলত যোগ গুরু রামদেবের নামেই বিকোয় পতঞ্জলির প্রোডাক্ট। কিন্তু অনেকেই জানেন না যে, এই বাণিজ্যের নেপথ্যের মূল কারিগরটি হলেন

আচার্য বালকৃষ্ণ নামের এক ব্যক্তি, যাঁর অধীনে রয়েছে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের ৯৪ শতাংশ মালিকানা। এই বালকৃষ্ণকে কেন্দ্র করে নানা সময় দানা বেঁধেছে নানা বিতর্ক। এমনকী তাঁর ভারতীয় নাগরিকত্ব এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। বছর কয়েক আগে নিজের
পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে তিনি পেশ করেছিলেন ‘পূর্ব মধ্যমা’ নামের হাইস্কুল ডিগ্রি

এবং সম্পূর্ণানন্দ সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘শাস্ত্রী’ ডিগ্রি। পরে এই সমস্ত নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং প্রশাসনের তরফে তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারী ষড়যন্ত্র এবং জাল দলিল পেশের মামলা দায়ের হয়। বালকৃষ্ণ আত্মগোপন করেন। পরে সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের সময় তাঁর কাছ থেকে একটি লাইসেন্সবিহীন পিস্তলও বাজেয়াপ্ত করে সিবিআই। পরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বালকৃষ্ণের বিরুদ্ধে আর্থিক

কারচুপির মামলাও দায়ের করে। কিন্তু ২০১৪ সালে এনডিএ ক্ষমতায় আসার পরেই ছবিটি বদলে‌ যায়। উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে বালকৃষ্ণকে বেকসুর খালাস করে দেওয়া হয়। অনেকে বিষয়টিকে পতঞ্জলির সঙ্গে সরকারের গোপন আঁতাতের পরিণাম বলে মনে করেন। একটি আরটিআই-এর উত্তরে ইলেকশন কমিশনের তরফে জানানো হয়, ২০০৯ সালে পতঞ্জলির তরফে ভারতীয় জনতা পার্টির তহবিলে ১১ লাখ টাকা

অনুদান দেওয়া হয়েছিল। তারই বিনিময়ে এনডিএ ক্ষমতায় আসার পরে অব্যাহতি দেওয়া হয় বালকৃষ্ণকে— এমন অভিযোগও উঠতে থাকে। বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সি বালকৃষ্ণ জন্মগতভাবে নেপালি। শৈশবেই বাবা-মার সঙ্গে ভারতে চলে আসেন তিনি। হরিয়ানার একটি গুরুকুলে বাবা রামদেবের সঙ্গে পরিচয় হয় বালকৃষ্ণের। বালকৃষ্ণেরই পরিকল্পনায় ও সহযোগিতায় ১৯৯০ সালে হরিদ্বারে দিব্য ফার্মেসি নামের একটি

ফার্মাসিউটিকাল কোম্পানি চালু করেন রামদেব।পরবর্তীকালে মূলত বালকৃষ্ণেরই পরিকল্পনা ও উদ্যোগে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদ প্রতিষ্ঠিত হয়। বালকৃষ্ণ একেবারে পাকা ব্যবসায়ীর মতোই ‘স্বদেশী’ ট্যাগলাইনকে পুঁজি করে এবং রামদেবের জনপ্রয়িতাকে কাজে লাগিয়ে পতঞ্জলি আয়ুর্বেদের শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে থাকেন। একেবারে অভিনব কায়দায় চলে পতঞ্জলির প্রচারও। কোনও মার্কেট সার্ভে না করেই নিত্যনতুন প্রোডাক্ট বাজারে ছাড়তে থাকে

পতঞ্জলি। কিন্তু ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক থেকে কোনও ঘাটতি কখনও পড়েনি।দিনে দিনে উন্নতি ঘটেছে খোদ বালকৃষ্ণেরও। ক্রমশ তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে ভারতের ধনীতম মানুষদের একজন তিনি। বালকৃষ্ণের মোট সম্পত্তির পরিমাণ এখন ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সেই পুরনো অভিযোগ এখনও বাতাসে ভেসে বেড়ায়। কিন্তু বালকৃষ্ণ সেসবের তোয়াক্কা না করে এগিয়ে চলেছেন উন্নতির পথে।

Check Also

নিউইয়র্কের মেট্রোরেলের ডিসপ্লেতে জ্বলজ্বল করছে বাংলা ভাষা! ব্যাপক ভাইরাল যে ছবি

নিউইয়র্কের মেট্রোরেলের ডিসপ্লেতে জ্বলজ্বল করছে বাংলা ভাষা! ব্যাপক ভাইরাল যে ছবি

নিউইয়র্কের মেট্রোরেলের ডিসপ্লেতে জ্বলজ্বল করছে বাংলা ভাষা! ব্যাপক ভাইরাল যে ছবি- আধুনিক বঙ্গসমাজের কোনো কোনো ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x