Home / শিক্ষাঙ্গন / জন্ম গরিব ঘরে তবে, ক্রিকেট বদলে দিয়েছে এই ১০ ক্রিকেটারের জীবন
image: google

জন্ম গরিব ঘরে তবে, ক্রিকেট বদলে দিয়েছে এই ১০ ক্রিকেটারের জীবন

জন্ম গরিব ঘরে তবে, ক্রিকেট বদলে দিয়েছে এই ১০ ক্রিকেটারের জীবন – সবাই ধনী হয়ে জন্ম গ্রহণ করে না। কেউ কেউ নিজের ভাগ্যের জোরে জীবনে সাফল্য অর্জন করে। ভারতীয় ক্রিকেটারদেরও জীবনেও এর বিকল্প নয়। ভারতীয় ক্রিকেট দলে ভারতের প্রায় সব স্থান থেকেই

খেলোয়াড় রয়েছেন। তাঁরা ভারতীয় দলকে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ এই স্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে। তাঁদের কঠিন পারিবারিক অবস্থাতেও তাঁরা পরিশ্রম করে বর্তমানে এই অসাধারণ স্থানে আসতে পেরেছেন। পাঁচ জন ভারতীয় ক্রিকেটার যাঁরা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বর্তমানে ধনী ক্রিকেটারে পরিণত হয়েছেন। তবে ওদের মনে প্রাণে ছিল ক্রিকেট। তবে চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক –

ইয়ুসুফ পাঠান, ইরফান পাঠান ভারতীয় ক্রিকেটে পাঠান ভাইদের ছোটবেলা কেটেছে মসজিদে। যে মসজিদে মাত্র মাসিক ২৫০ টাকায় ঝাঁট দেওয়ার কাজ করতে ইরফান ও ইউসুফের বাবা। পরে একটি ঘর নিলেও সেখানেই থাকতেন পরিবারের পাঁচজন। নতুন জুতা কেনার পয়সা না-থাকায় পুরনো জুতা কিনে তা নিজেই সেলাই করতেন ইরফান। বাকিটা ইতিহাস।

মুনাফ প্যাটেল গুজরাটের ইকহারে জন্ম মুনাফ প্যাটেলের বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর। শিশুশ্রমিক হিসেবে ভারতীয় দলের প্রাক্তন পেসার দৈনিক ৩৫ টাকা বেতনে কাজ করতেন টাইলস ফ্যাক্টরিতে। গ্রামের এক ব্যক্তি এ দেখে মুনাফকে জুতো কিনে দেন এবং বরোদার এক ক্রিকেট ক্লাবে ওকে ভর্তি করার ব্যবস্থা করেন। পরে এমআরএফ পেস ফাউন্ডেশনে ট্রায়ালে সুযোগ পান মুনাফ। সেখানে কিংবদন্তি অজি পেসার ডেনিস লিলির তত্ত্বাবধানে প্র্যাকটিস করেন বরোদার ডানহাতি। পের স্টিভ ওয়া মুনাফের জন্য সচিনের কাছে দরবার করেন। ২০০৬-এ টেস্ট অভিষেক হয় মুনাফের। দেশের হয়ে ১৩টি টেস্ট ও ৭০টি ওয়ান ডে খেলেছেন তিনি।

জাহির খান জাহিরের ক্রিকেটার হয়ে ওঠার রাস্তা ছিল অমসৃণ। মুম্বাই ন্যাশানাল ক্রিকেট ক্লাবে সুযোগ পাওয়ায় জহিরকে আন্টির সঙ্গে মুম্বাইয়ে এক হাসপাতালের একটি বেডের মধ্য দিন কাটাতে হয়। কারণ তার আন্টি হাসপাতালে হেল্পারের কাজ করতেন। দু-বেলা খাবারের পয়সাও ছিল জহিরের কাছে। না-খেয়ে সকালে প্র্যাকটিসে যেতেন জহির। মেন্টর সুধীর নায়েক জহিরকে মাসে পাঁচ হাজার টাকার কাজ দেন৷ তা দিয়েই সমস্ত খরচ চালাতেন ভারতীয় বোলিংয়ের ‘জ্যাক’। ২০০০ সালে কেনিয়ার বিরুদ্ধে ওয়ান ডে এবং বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয় ভারতীয় ক্রিকেটে সেরা বাঁ-হাতি পেসারের। ভারতের হয়ে ৯২টি টেস্ট এবং ২০০টি ওয়ান ডে খেলেছেন জহির।

রবীন্দ্র জাদেজা সৌরাষ্ট্রে জন্ম রবীন্দ্র অনিরুদ্ধ জাদেজার বাবা একটি বেসরকারি সংস্থায় সিকিউরিট গার্ডের কাজ করতেন। দ্ররিতার সঙ্গে লড়াই করা জাদেজার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন ছিল অলীক। তবুও চেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু ২০০৫-এ দুর্ঘটনায় মায়ের মৃত্যুর পর ক্রিকেট ছেড়ে দিতে চেয়েছিল জাদেজা। কিন্তু বোন পার্টটাইম কাজ করে তার খেলার খরচ চালাতেন। ২০০৮-এ বিরাট কোহলির নেতৃত্বে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের সহ-অধিনায়ক ছিলেন জাদেজা।

বিনোদ কাম্বলি মুম্বাইয়ের বস্তি থেকে ক্রিকেটের রাজপথে আগমন ঘটে কাম্বলির। বাবা ছিলেন এক সামান্য মেকানিক। মাসে যার আয় ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। একটি ঘরের ১৮জন থাকত। শোনা যায় ব্যাট কেনার জন্য চুরিও করেছিলেন কাম্বলি। কিন্তু চমক ঘটে স্কুল ক্রিকেটে সারদাশ্রম বিদ্যামন্দিরের হয়ে শচিন টেন্ডুলকারের সঙ্গে তার ৬৬৪ রানের পার্টনারশিপ শুধু ভারতেই নয়, ক্রিকেটবিশ্বেও নজর কাড়ে।

বিরাট কোহলি ভারতীয় দলের বর্তমান ক্যাপ্টেন বিরাট কোহলি এই রকম পরিবার থেকে উঠে এসেছে, যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। কিন্তু পরিশ্রমের ফল মিষ্টি হয় তার জলজ্যান্ত উদহারণ তিনি। মহম্মদ শামি উত্তরপ্রদেশের আমরোহা জেলার সাহসপুর নামে এক প্রত্যন্ত গ্রামে জন্ম শামির বাবা ছিলেন এক দরিদ্র কৃষক। ক্রিকেটের প্রতি ছেলের আগ্রহ দেখে গ্রাম থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে মোরাদাবাদে এক ক্রিকেট কোচিং সেন্টারে তাকে ভর্তি করেন বাবা। উত্তরপ্রদেশে অনূর্ধ্ব ১৯ দলে সুযোগ না পাওয়ায় শামিকে কলকাতায় পাঠান কোচ বদরুদ্দিন সিদ্দিকি। এখান থেকেই প্রথমে বাংলা এবং ২০১৬ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে সিরিজে ভারতীয় দলে ডাক পান শামি। যিনি এখন টিম ইন্ডিয়ার পেস বোলিংয়ের মূল সম্পদ।

মহেন্দ্র সিং ধোনি ধোনি একজন সফল ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন। তিনি ক্রিকেট খেলার জন্য বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেন।আর এখন তিনি ঝাড়খন্ডের নাম্বার ওয়ান আয়কর দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম।

উমেশ যাদব ভারতীয় দলের পেসার উমেশের বাবা ছিলেন একজন খনি শ্রমিক। ক্রিকেট খেলার মতো অর্থ ছিল না। ছোটবেলায় টেনিস বলেই খেলতেন উমেশ। কিন্তু বড় হয়ে পুলিশের চাকরি করার ইচ্ছে ছিল বিদর্ভের এই ডানহাতি পেসারের। কিন্তু ট্রায়ালে সুযোগ পাওয়ার পর ধীরে ধীরে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন তিনি। ২০১০-এ ভারতের জিম্বাবোয়ে সফরের দলে সুযোগ পান উমেশ। পরের বছর ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিষেক হয় ভারতীয় দলের

Check Also

শবরদের জন্য স্কুল গড়েছেন নিজের টাকায়! আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত পু’লিশ কনস্টেবল! সেলুট মহৎ কাজের জন্য

শবরদের জন্য স্কুল গড়েছেন নিজের টাকায়! আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত পু’লিশ কনস্টেবল! সেলুট মহৎ কাজের জন্য ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
error: Content is protected !!