Monday , July 26 2021
Home / শিক্ষাঙ্গন / খেয়ে না খেয়ে দিন পার করা লালটু দর্জি মায়ের প্রেরণায় রোজ ১৮ ঘণ্টা পড়াশুনা করে BCS ক্যাডার!

খেয়ে না খেয়ে দিন পার করা লালটু দর্জি মায়ের প্রেরণায় রোজ ১৮ ঘণ্টা পড়াশুনা করে BCS ক্যাডার!

খেয়ে না খেয়ে দিন পার করা লালটু দর্জি মায়ের প্রেরণায় রোজ ১৮ ঘণ্টা পড়াশুনা করে BCS ক্যাডার!- অভাবের সংসারে বাবা বাজারে মাছ বিক্রি করে সং’সার চালাতেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তা’দের অভাব আরও প্রকট হয়। খেয়ে না খেয়ে সং’সার চলেছে তাদের। এ অবস্থায়

তাদের সংসারে হাল ধরেন মা। সেলাই-য়ের কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। এভাবে ছেলেকে বিশ্ব;বিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়েছেন। শুধু তাই নয় সেই ছেলে এবার বিসিএসে দেশ সেরাদের তালি;কায় এসেছেন। ৩৮তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারে ৩য় হয়েছেন তিনি। গল্পটা জগন্নাথ

বিশ্ব’বিদ্যালয়ের ছাত্র লালটু সরকারের। টিউশনি করিয়ে পড়া;শোনার খরচ বহন করেছেন। অভাব-কে জয় করে তিনি এবার বিসিএসে চমক দেখিয়ে’ছেন। হাসি ফুটিয়েছেন মায়ের মুখে। জানা গেছে, লালটু সরকার সাতক্ষীরার তালা সদরের মাঝি;য়াড়া গ্রামের বাসিন্দা। ভাই-বোনের

মধ্যে লালটু ছোট। বড় বোন দিপালী সর’কার থাকেন স্বামীর বাড়িতে। মা সুলতা সরকার থাকেন গ্রামের বাবার রেখে যাওয়া কুঁড়ে’ঘরে। লালটু সরকার ২০০৭ সালে তালা বিদে সরকারি উচ্চ বিদ্যা;লয় থেকে মানবিক বিভাগে GPA-4 পেয়ে SSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০০৯ সালে তালা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মহাবিদ্যা;লয় থেকে GPA-4.60 পেয়ে HSC পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েজগন্নাথ বিশ্ববিদ্যা;লয়ে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে দর্শন

(Pholosophy) বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ২০১৩ সালে Honours ও ২০১৪ সালে Master’s পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। লালটু সরকারের মা দিপালী সরকার বলেন, “২০০৬ সালে লালটুর বাবার মা’রা যাওয়ার পর খুব অসহায় হয়ে পড়ে’ছিলাম। দিন চলতো না ঠিকমতো। খেয়ে না খেয়ে থেকেছি। এরপর একটি বে-সরকারি সংস্থা একটা সেলাই মেশিন দেয়। সেই সেলাই মেশিনের হাতের কাজ করে উপা;র্জনের টাকা দিয়ে

সংসার চালত। ছেলে লেখাপড়া শিখত। খুব বেশি খরচ ছেলেকে কোনোদিন দিতে পারিনি। তবে চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো। ছেলে বিসিএস ক্যাডার হয়েছে। তবে এটি কি জিনিস আমি বুঝি না। তবে ছেলে বলেছে ভালো চাকরি পেয়েছে। আমাদের আর অভাব থাকবে না।”লালটু সরকার বলেন, “SSC পরীক্ষার এক বছর আগে বাবা মা’রা যান। বাবা মারা যাওয়ার পর দিশে’হারা হয়ে পড়েছিলাম। কি করব বুঝতে পারছিলাম না।

তবে লেখাপড়া চালিয়ে গেছি। অভাবের মধ্যেই বেড়ে উঠেছি। HSC শেষ করে তালা থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর টাকার অভাবে চারটি টিউশনি করেছি। সেই টাকায় শেষ করেছি লেখাপড়া। মা-বোন সাধ্যমতো সহযো’গিতা করেছে আমাকে। মাস্টার্স শেষ করার পর বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষা দিয়েছি। বার বার ব্যর্থ হয়েছি। তবে আমি স্বপ্ন দেখতাম বিসিএস ক্যাডার হব। ২০১৭ সালে ৩৮তম BCS পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হল।

পরীক্ষা দিয়েই বুঝে’ছিলাম আমার নাম আসবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলাম। এরপর দৈনিক ১৮-১৯ ঘণ্টা পড়ালেখা করতাম। অবশেষে শিক্ষা ক্যাডারে সারা দেশে 3য় হয়েছি। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে আমার ওপর আসা রাষ্ট্রের সরকারি দায়িত্ব পালন করতে চান লালটু সরকার। লাল্টু সরকার সকল বিসিএস প্রত্যাশীদের জন্য অনুপ্রেরনার মডেল হতে পারেন। তার জন্য রইলো শুভকামনা। তথ্যসূত্রঃ Daily Bangladesh

Check Also

লকডাউনে ৩৫ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ বিশাল নিয়োগ IT সেক্টরে | আবেদন লিংক, যোগ্যতা

লকডাউনে ৩৫ হাজার শূন্যপদে নিয়োগ বিশাল নিয়োগ IT সেক্টরে | আবেদন লিংক, যোগ্যতা

লকডাউন এবং করোনার কারণে অর্থনীতির ভাঙনের জেরে চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই। বিপুল অভিজ্ঞতা থাকা সত্বেও তাদের ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *