Thursday , May 13 2021
Home / উদ্যেক্তা / খুব সহজেই বাসার বারান্দায় বা ছাদে টবেই তরমুজ চাষ করুন

খুব সহজেই বাসার বারান্দায় বা ছাদে টবেই তরমুজ চাষ করুন

তরমুজ গ্রীষ্মকালীন একটি জনপ্রিয় ফল। গরমে তরমুজ দেহ ও মনে শুধু প্রশান্তিই আনে না এর পুষ্টি ও ভেষজগুণ রয়েছে অনেক। প্রচুর

পরিমাণে আয়রন, ভিটামিন, কার্বোহাইড্রেট, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান রয়েছে তরমুজে। রাতকানা, কোষ্ঠ-কাঠিন্য,
অন্ত্রীয় ক্ষত, রক্তচাপ, কিডনিসহ নানা ধরনের অসুখ প্রতিরোধ করে। গরমের দিনে ঘামের সাথে প্রচুর লবণ ও পানি বেরিয়ে যায়। তরমুজে

প্রায় ৯৬ ভাগই পানি এবং প্রচুর খনিজ লবণ থাকায় দেহে লবণ ও পানির ঘাটতি পূরণ করে। আসুন, আমরা জেনে নেই কীভাবে এই উপকারী ফলটি চাষ করতে হয়। এবার চলুন জেনে নিই সেই উপায় গুলো কি এবং উপায় গুলোর মাধ্যমে তরমুজ চাষের আদ্যোপান্ত।

চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক-

স্থান নির্ধারণ: বাসার বারান্দায় বা ছাদে এমন একটি স্থান বেছে নিন যেখানে প্রচুর আলো বাতাস পায়। টব চাষের জন্য টব বা প্লাস্টিক অথবা কাঠের কনটেইনারও ব্যবহার করা যায়। মাঝারি সাইজের একটি টব বেছে নিন। প্লাস্টিকের বালতিতেও করতে পারেন। মাঝারি আকৃতির টবে ৪টি গাছের চাষ করা সম্ভব। মূলত টবের মধ্যে গাছ থাকবে, কিন্তু তরমুজ টবের পাশের ফ্লোরে বিছানো অবস্থায় থাকবে।

মাটি প্রস্তুত: দোআঁশ ও বেলে-দোআঁশ মাটি সব চাইতে উপযোগী৷ মাটিতে প্রচুর জৈব সার থাকতে হয়। এক ভাগ মাটি ও এক ভাগ জৈব সার নিয়ে ভালোভাবে ঝুরা করে মিশিয়ে নিন। মাটি খুব শুকনো হলে একটু পানি দিয়ে ভিজিয়ে মেশান।
বীজ প্রস্তুত: শীতকালে খুব ঠান্ডা থাকলে বীজ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত পানিতে ভিজিয়ে রেখে মাটির পাত্রে রক্ষিত বালির ভেতরে রেখে দিলে ২-৩ দিনের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরোদ্গম হয়। বীজের অঙ্কুরোদ্গম দেখা দিলেই ওই বীজ বীজতলায় স্থানান্তরিত করা উচিত। বীজ রোপণ ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় হলো তরমুজ চাষের জন্য উপযুক্ত। বীজ রোপণের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম পক্ষ সর্বোত্তম। শীতের শেষে মধ্য ফেব্রুয়ারি বীজ বপন করা যায়।

যত্ন: বিশেষ করে প্লাস্টিকে কন্টেইনার ব্যবহার করলে অতিরিক্ত পানি বের করে দেয়া জন্য আগেই কন্টেইনারটিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে নিতে পারেন।বীজ বপনের পর অঙ্কুরোদ্গমের জন্য একটি হালকা পানি দেয়া দরকার এবং পরবর্তী সময়ে পানির অভাব হলে ৮-১০ দিন পরপর অবস্থা বুঝে পানি দিতে হবে। শুকনো মৌসুমে সেচ দেয়া খুবই প্রয়োজন। গাছের গোড়ায় যাতে পানি লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ফুল উৎপাদন ও ফল বড় হওয়ার সময় জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আদ্রতা থাকতে হবে। তরমুজের ক্ষেত্রে প্রাথমিক অঙ্গজ বৃদ্ধি পর্যায়, ফুল উৎপাদন ও ফল বড় হওয়ার সময় অবশ্যই পানি দিতে হবে। এ সময় আদ্রতার অভাব হলে ফলন ও ফলের গুণগত মান বিনষ্ট হতে পারে।

প্রত্যেকটি গাছে চারটি শাখা রেখে বাকিগুলো কেটে দিতে হবে। গাছের শাখার মাঝখানের গিটে যে ফল হয় সেটি রাখতে হয়। চারটি শাখায় চারটি ফলই যথেষ্ট। সকাল বেলা স্ত্রী ও পুরুষ ফুল ফোটার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী ফুলকে পুরুষ ফুল দিয়ে পরাগায়িত করে দিলে ফলন ভালো হয়। ফসল তোলা জাত ও আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে তরমুজ পাকে। সাধারণত ফল পাকতে বীজ বোনার পর থেকে ৮০-১১০ দিন সময় লাগে। তরমুজের ফল পাকার সঠিক সময় নির্নয় করা একটু কঠিন। কারণ অধিকাংশ ফলে পাকার সময় কোনো বাহ্যিক লক্ষণ দেখা যায় না। তবে নীচের লক্ষণগুলো দেখে তরমুজ পাকা কি না তা অনেকটা অনুমান করা যায়। ফলের বোঁটার সঙ্গে যে আকর্শি থাকে তা শুকিয়ে বাদামি রং

হয়।খোসার উপরে সূক্ষ লোমগুলো মরে পড়ে গিয়ে তরমুজের খোসা চকচকে হয়।তরমুজের যে অংশটি মাটির ওপর লেগে থাকে তা সবুজ থেকে উজ্জল হলুদ রংঙের হয়ে ওঠে।তরমুজের শাঁস লাল টকটকে হয়।আঙ্গুল দিয়ে টোকা দিলে যদি ড্যাব ড্যাব শব্দ হয় তবে বুঝতে হবে যে ফল পরিপক্কতা লাভ করেছে। অপরিপক্ব ফলের বেলায় শব্দ হবে অনেকটা ধাতবীয়। হাইড্রোপনিক উপায়ে মাটি ছাড়া শুধুমাত্র পানিতেই তরমুজ চাষ করা সম্ভব। বিস্ময়কর হলেও সত্যি যে, এই পদ্ধতিতে তরমুজের ফলন খুবই ভালো হয়। গাছ দ্রুত বড় হয় কারণ মূল পানি থেকে সরাসরি পুষ্টি উপাদান গুলো গ্রহণ করতে পারে। তরমুজ চাষ করার জন্য হাইড্রোপনিক একটি সময়োপযোগী পদ্ধতি।

প্রস্তুত প্রণালী: ক) হাইড্রোপনিক মিশ্রন তৈরি করতে ১ চা চামচ ইপসম লবণ ও ২ চা চামচ পানিতে মিশে যায় এমন ধরনের সার নিতে হবে।১ গ্যালন পানিতে এগুলো ভালো করে মিশিয়ে নিন। এরপর একটি বড় প্লাস্টিকের পাত্র এ ঢেলে নিন। মিশ্রনের পিএইচ লেভেল ৫.৫-৬.৫ এর মধ্যে রাখতে হবে। খ) এই পদ্ধতিতে যেহেতু মাটি ব্যবহার করা হয় না সেহেতু গাছের মূলকে সঠিক ভাবে রাখতে কিছু নিস্ক্রিয় মাধ্যম যেমন:পারলাইট(মার্বেল পাথরের টুকরো), রকউল, মাটির বড়ি, পিট শৈবাল, ভার্মিকুলেট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়। গ) জালি দিয়ে ভাল করে

গাছটি জড়িয়ে দিতে হবে। ঘ) মটরের সাহায্যে পরিচালনা করতে হবে এবং প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ঙ) হাইড্রপনিক মিশ্রনটি প্রতি দুই/তিন সপ্তাহ পর পর নিস্কাশনের মাধ্যমে বদলাতে হবে। চ) মিশ্রনে অতিরিক্ত খনিজ তৈরি হয়ে গাছ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। ছাদবাগান যেমন দেহ ও মন সতেজ ভাব নিয়ে আসে তেমনি পরিবেশ ঠান্ডা ও দূষণ মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। ছাদ বাগান এ তরমুজ চাষ করে আমরা তাজা ও ভেজালমুক্ত তরমুজ পেতে পারি। তাই দেরি না করে আজই ছাদে তরমুজ চাষ শুরু করুন!

About Moni Sen

Check Also

মাত্র ২ টাকা দিয়ে শুরু করে এখন একশত কোটি টাকার মালিক!

মাত্র ২ টাকা দিয়ে শুরু করে এখন একশত কোটি টাকার মালিক!

এটি কোন গল্প নয়, বাস্তব গল্প মনে হতে পারে শুরু থেকে শেষ। তবে এটা কোনও ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x