Home / দেশ-বিদেশ / কলকাতার আশেপাশে ভ্রমণ করার ১০ টি আকর্ষণীয় স্থান; পিকনিক স্পটের জন্যও বিখ্যাত
Image: google

কলকাতার আশেপাশে ভ্রমণ করার ১০ টি আকর্ষণীয় স্থান; পিকনিক স্পটের জন্যও বিখ্যাত

বর্তমান সময়ের মানুষরা খুবই ব্যস্ত যে তাদের হাতে কোন সময় নেই যেন তারা ঘুরতে যাবে। নগর জীবনের যান্ত্রিকতা হতে মুক্তি দিতে পারে এমন কিছু স্থানের সাথে আজ আমরা আপনাদের পরিচয় করিয়ে দিব। আমাদের প্রিয় কলকাতার আশেপাশে রয়েছে বেশি কিছু আকষর্ণীয় ভ্রমণ করার স্থান। সপ্তাহান্তে আপনি বন্ধুবান্ধব কিংবা স্বপরিবারে বেড়িয়ে আসতে পারেন।

ঘুরতে যাবেন যাবেন করে আর যাওয়া হয়ে উঠে না অনেকের। তবে এ নিয়ে কোন চিন্তা করবেন না। কেননা যত ভাববেন তত সমস্যা বাড়তে থাকেব। একদিন হুট করে বেড়িয়ে পড়ুন; দেখবেন আর কোন সমস্যা তাড়া করছে না। তবে চলুন আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই সেই স্থানগুলোর –

১। মায়াপুর: জলঙ্গি আর গঙ্গার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত মায়াপুর ইসকন মন্দির। অসাধারণ এই মন্দিরটি দেখার সাথে সাথে পিকনিকের সুযোগ হাতছাড়া করা কিন্তু ঠিক হবে না। এই নদীর তীর শীতকাল পিকনিক স্পটের জন্য অসাধারণ একটি আকর্ষনীয় স্থান।

আর এখানে খরচ হবে খুবই অল্প। কৃষ্ণনগর হতে অটোয় করে মায়াপুর ঘাট এসে নৌকায় করে ঘাট পার হলেই মায়াপুর, তবে কলকাতা হতে সোজা বাসে চেপে আসতে পারেন মায়াপুরে। এখানকার ‍সৌন্দর্যের মাঝে ঘুরে বেড়ানোর সময় আপনার আর কোন কিছু মনে থাকবেন। আপনার হৃদয় মিশে যাবে এখাকার পরিবেশের সাথে।

২। গাদিয়াড়া: কলকাতার নিকটে অন্যতম আকর্ষণীয় পিকনিক স্পট এটি। কলকাতা হতে মাত্র ৮৫ কিলোমিটার দূরে হাওড়াতে অবস্থিত। ধর্মতলা হতে মাত্র ৩ ঘণ্টা সময় লাগে এখানে পৌঁছানো যায়। মজার কথা হচ্ছে এখানে আপনি হুগলি নদীর তীরে বসে পিকনিক করার অপূর্ব সুযোগ পাচ্ছেন। এখানে থাকার জন্য ট্যুরিস্ট কটেজও রয়েছে।

৩। মাইথন: পিকনিক করার পাশাপাশি আপনি চাইলে এখানে দামোদর নদীর তীরে দু এক দিনের জন্য ঘুরে আসতে পারেন। এর কাছেই রয়েছে জাগ্রত কল্যাণেশ্বরী মন্দির। এখানকার নানা প্রকার গাছপালর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। মাইথন আসানসোল বা বরাকপুর হতে মাত্র ৮ কি.কি দূরত্ব। এখানে আপনি থাকার জন্য কটেজ সুবিধাও পাবেন।

৪। দুর্গাপুর ব্যারেজ: এই স্থানটি আপনাকে অবশ্যই মুগ্ধ করবে আপনি যদি হয়ে থাকেন একজন প্রকৃতিপ্রেমি। দামোদর নাদের ধারে গাছের ছায়ায় পিকনিক করার অপূর্ব সুযোগ থাকছে এখানে। দামোদর নদীর অপর তীরে রয়েছে বাকুঁড়া জেলা।

৫। গড় মান্দারণ: কামারপুকুর হতে ঘাটাল যাওয়ার পথে ২ হতে ৩ কিমি গেলেই দেখা মিলবে গড় মান্দারণ। এটিও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপরুপ স্থান। এখানকার গাছপালার সৌন্দর্য আপনাকে মুগ্ধ করবে। এটিও পিকনিক স্পটের জন্য বিখ্যাত।

৬। গড় চুমুক: এটি হাওড়ার শ্যামপুর এলাকার অন্যতম একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট। একটু এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে এশিয়ার বৃহত্তম গেটের অন্যতম আটান্ন গেট। গড় চুমুক এর সামনেই পাবেন দামোদর নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ।

৭। পানিত্রাস: কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্রে চট্টোপাধ্যায় এর বাড়ির কাছে পানিত্রাস। এর কাছেই রুপনারায়ণ নদীর বিশাল মাঠ, এখানে প্রতিবছর অনেক মানুষ পিকনিক করতে আসে। এতে এখানকার পরিবেশে আপনি মুগ্ধ না হয়ে পারবেন না। মন খুলে নদীর ধারে ঘুরতে পারবেন প্রিয় মানুষটি হাতে হাত রেখে।

৮। বাকসি: হাওড়ার বাগানন স্টেশন হতে বাসে চেপে কিছুটা গেলেই দেখা মিলবে বাকসির। এখানে পিকনিক করার এবং ঘুরতে যওয়ার সুর্বণ সুযোগ পাবেন। তবে যাওয়ার আগে হতে যোগাযোগ করে নিবেন। কেননা আপনি যেহেতু দূর হতে যাবেন। গিয়ে যেন কোন বেকায়দায় না পড়েন সেজন্য আগে হতে যোগাযোগ করে যাওয়াই উত্তম।

৯। কল্যাণী পিকনিক গার্ডেন: কল্যাণী সীমান্তে স্টেশন হতে হাতের নাগালে এই পিকনিক স্পট। এখানে প্রবেশ ফি রয়েছে। এখানে পিকনি করতে হলে আপনাকে আগে হতে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে নিতে হবে।

১০। নিউ দিঘা: হাওড়া হতে সোজা চন্দননগর ট্রেনে চলে যাবেন। এখান হতে প্রায় ১৩/১৪ মিনিটের পথ। হুগলি জেলা পরিষদের উদ্যেগে এখানে গড়ে উঠেছে মনোরম পিকনিক স্পট। এখানকার নানা রকম গাছপালা ও ফুল আপনাকে মুগ্ধ করবে।

তো এখনও কি ভাববেছেন? আর ভাবাভাবি নেই। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুবান্ধব নিয়ে আজই বেড়িয়ে পড়ুন অপূর্ব এই সুন্দর স্থানগুলির উদ্দেশ্যে। আপনার যাত্রা শুভ হোক।
লেখক: শীর্ষেন্দু চক্রবর্তী

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x
error: Content is protected !!