Friday , September 17 2021
Home / শিক্ষাঙ্গন / আড়াই বছরের বাচ্চাকে ছেড়ে কঠোর পরিশ্রমে প্রথম চান্সেই IAS অফিসার!

আড়াই বছরের বাচ্চাকে ছেড়ে কঠোর পরিশ্রমে প্রথম চান্সেই IAS অফিসার!

আড়াই বছরের বাচ্চাকে ছেড়ে কঠোর পরিশ্রমে প্রথম চান্সেই IAS অফিসার!- মেয়েরা বিয়ের আগে অনেক স্বপ্ন দেখে। তারা তাদের জীবনে আরও ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখে, যাতে তারা নিজের পরিচয় তৈরি করতে পারে এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে প্রায়ই এমন

ঘটনা ঘটে যে কোন মেয়ে বিবাহিত হওয়ার পরে সে তার পুরো জীবন তার পরিবার ও তার সন্তানের পেছনেই কাটিয়ে দেয়। সে বাড়ি এবং পরিবারের দায়িত্বের সামনে নিজের স্বপ্ন গুলোকে বিসর্জন দিয়ে দেয়। তবে এমনও অনেকে আছে যারা বিয়ের পরেও কঠোর পরিশ্রম এবং

দৃঢ়তার সাথে নিজেদের স্বপ্ন গুলোকে পূরণ করে। এর সাহায্যে সে সমাজে অন্যান্য মেয়েদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে ওঠে। আজ আমরা আপনাকে এমনই একজন ব্যক্তির কথা জানাতে চলেছি যে বিয়ের পরে তার নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করেছে। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে দৃঢ়তা এবং সাফল্য অর্জনের প্রবল ইচ্ছা থাকলে যেকোনো পরিস্থিতিতেই তা অর্জন করা সম্ভব। অনুপমা সিং বিহারের রাজধানী

পাটনার বাসিন্দা। তিনি তার প্রাথমিক শিক্ষা পাটনা থেকে শেষ করেছেন। অনুপমা একজন অবসরপ্রাপ্ত এম আর এর মেয়ে এবং তার মা অঙ্গনওয়াড়ি তে কাজ করতেন। ছোটবেলা থেকেই অনুপমা লেখাপড়ায় খুবই মেধাবী ছিলেন। তিনি দ্বাদশ পড়ে এমবিবিএস প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়েছেন এবং এই পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছেন। এর পরে অনুপমা এম এস প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়েছিলেন যা খুব কঠিন পরীক্ষা বলে মনে করা

হয় তিনি এই পরীক্ষাতেও সফল হন। 2014 সালে তিনি বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স অফ সার্জারি ডিগ্রী অর্জন করে। এতকিছুর পরেও অনুপমার সরকারি হাসপাতালে এসআরসিবি ডিউটি করা শুরু করেন। এই সময় তার বিয়ে হয় এবং বিয়ের কিছুদিন পরেই অনুপমার একটি সুন্দরী কন্যার জন্ম হয়। দায়িত্ব পালনের সময় অনুপমা দেখলেন যে সরকারি হাসপাতাল এ অনেক ছোট বড় ঘাটতি রয়েছে, যেগুলি

সমাধান করা মুশকিল। তখন তিনি স্বাস্থ্যব্যবস্থার কিছু পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেন। তবে তিনি সিস্টেম এর অধীনে থাকা সমস্যাগুলির বিষয়ে কাজ করতে পারেনি। তাই তিনি ভেবেছিলেন যে তার উচিত সিভিল সার্ভিসের দিকে যাওয়া। একটি সাক্ষাৎকারে অনুপমা বলেছিলেন যে ছোট্ট মেয়ে এবং সংসার সামলাচ্ছে প্রস্তুতি নেওয়া কোন যুদ্ধ থেকে কম ছিলনা।এই কারণে তিনি এক বছর সময় নিয়ে দিল্লিতে পড়াশোনা করতে যান

এবং সেখানে ইউপিএসসি প্রস্তুতির জন্য কোচিং ইনস্টিটিউট এ ভর্তি হন। তার কাছে মাত্র এই একটি বছরের ছিল যেহেতু সে তার আড়াই বছরের বাচ্চাকে ছেড়ে দিল্লিতে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। ওরে বাবা বলেছিলেন যে তার সন্তানের কাছ থেকে দূরে গিয়ে পড়াশোনা করার
সিদ্ধান্ত তিনি নিয়েছিলেন ঠিকই তবে সন্তানের কাছ থেকে দূরে থাকা তার পক্ষে খুব কঠিন ছিল। অনুপমা যখন দিল্লিতে বাস করার সময়

ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি জানতেন না যে দিনে কতবার ভেবেছেন যে তিনি পড়াশোনা ছেড়ে সন্তানের কাছে চলে যাবেন। ইউপিএসসি প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাকে বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল যেমন তিনি বিজ্ঞানের ছাত্রী ছিলেন যার কারণে তার চারুকলার বিষয় বুঝতে খুব অসুবিধা হতো। ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়ার কদিন পরে সে বুঝতে পেরেছিলো এখানে শুধু তাকে গাইড করা হবে কিন্তু এই পথে

তাকে একাই চলতে হবে। কিছু নিয়ম শৃঙ্খলা অনুসরণ করে অনুপমা তার পড়াশোনা শেষ করে এবং প্রতি আড়াই মাসে তিনি তার বাড়ি যেতেন। এর ফলশ্রুতিতে তিনিই প্রথম প্রয়াস এর সাফল্য অর্জন করেছিলেন। অনুপমা 2019 সালে ইউ পি এস সি তে নব্বইতম স্থান অর্জন

করেন। এই পৃথিবীতে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। অনুপমার আড়াই বছরের শিশু এবং পরিবার থেকে দূরে থাকা এবং ইউপিএস এর জন্য প্রস্তুতি নিয়ে প্রথম প্রতিষ্ঠানের সাফল্য অর্জন করা সত্যিই খুব প্রশংসনীয়।

Check Also

শুধুমাত্র ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে চাকরি দিচ্ছে রাজ্য সরকার, রইল আবেদন পদ্ধতি

শুধুমাত্র ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে চাকরি দিচ্ছে রাজ্য সরকার, রইল আবেদন পদ্ধতি

শুধু ইন্টারভিউ এর মাধ্যমে চাকরি দিচ্ছে রাজ্য সরকার, রইল আবেদন পদ্ধতি- লিখিত পরীক্ষা নয়, শুধুমাত্র ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *